দু’দিন ধরে মরিয়মের ওপর ক্ষেপে আছে মুনিরা ।স্নেহার পুতুলটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।মরিয়ম মিনমিন করে বলে, মামী, আমি দেখি নাই। পুতুলটা স্নেহাকে উপহার দিয়েছিল রেবেকা । রেবেকার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত মুনিরা। তেমন ঘনিষ্টতা অবশ্য ছিল না। রেবেকার ডিপার্টম্যান্টও আলাদা ছিল। কম কথা বলা ধবধবে ফরসাএকটা মেয়ে । সব সময় বিষন্ন থাকত। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার পর আর রেবেকার সঙ্গে যোগাযোগছিল না। …বিয়ের পর বরের সঙ্গে দু বছরের জন্য জাপান চলে যায় মুনিরা। স্নেহার জন্মদিনে সেই রেবেকা এসে উপস্থিত । দুপুরবেলা। মুনিরা কিচেনে ছিল। পায়েস রাঁধছিল। কলিংবেল শুনে মরিয়মকে বলল, দেখ তো কে এল। তারপর ড্রইংরুমে এসে মুনিরা অবাক। রেবেকা। পরনে কালো রঙের সালোয়ার-কামিজ। কালো ওড়না। সেই ফোলা ফোলা ধবধবে ফরসা মুখ। আশ্চর্য! তুই? রেবেকা ম্লান হাসে। ঠিকানা পেলি কই? আশ্চর্য! আমি যে এখানে থাকি কে বলল তোকে? রেবেকা এসব প্রশ্ন এড়িয়ে গেল। তেমন কিছু বলল না। বেশিক্ষণ বসল না। কেবল ব্যাগ থেকে একটা পুতুল বের করে স্নেহাকে দিল। ছোট কাপড়ের পুতুল। হলদে রঙের। কালো সুতার চুল। কপালে লাল টিপ। মনে হয় না ওটা স্নেহার পছন্দ হয়েছে।...