Skip to main content

নিশিযাতনা...

অফিসের 3rd ফ্লোরটাতে কোনো process নেই। তাই ফাঁকাই থাকে। আমার জন্য এটাই প্রিয় জায়গা। অফিসের ভিতরেও বেশ নিরিবিলিতে সময় কাটানো যায়।

প্রায় দিনই এখানের করিডোরে লাইট বন্ধই থাকে। দিনের বেলা যাও বা সূর্যের আলো উকি মারে, রাতের বেলা পুরোই অন্ধকার।

তখন নাইট শিফট ছিল। রাত তখন 2টো। কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করে করিডোরের এদিকটায় ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। রাতের অন্ধকারে অফিসটাকে বেশ আলাদা লাগে। তাই দেখছিলাম। হঠাৎ মনে হলো কে যেন ডাক দিলো আমায়। কারোর জানার কথা নয়, আমি এখানে আছি। তার ওপর এদিকটায় আসতেও কেউ সাহস পায় না রাতে। ভাবলাম colleague দেরই কেউ হবে বোধ হয়। এগোলাম করিডোরের দিকে। আচমকাই ব্যালকনির লাইটটা দপদপ করে উঠলো।

আমার এমনিতে ভুতে ভয় নেই। কিন্তু সেদিন কেমন যেন গা টা কেমন ছমছম করে উঠেছিল। আবছা আলোয় দরজার কাছে নিজেরই ছায়া দেখলাম, তবু যেন কেমন অন্য রকম লাগলো। মনে হলো অন্য কেউ। স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কালো। দরজা টা ধাক্কা দিলাম। মনে হলো কেউ যেন ওপাশ থেকে ঠেলে ধরে আছে। আরেকটু জোরে ঠিলতেই সজোরে খুলে গেল।

পুরো করিডোরটাই অন্ধকার। শুধু ওপারের দরজার কাঁচের ফাঁক দিয়ে যেটুকু আলো পৌঁছায়, ব্যাস ততটুকুই। তাতে দরজার সামনেটাকেই স্পষ্ট দেখা যায় না। যদিও আমি এখান দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করি। তাই অন্ধকারেও অনায়াসেই হেঁটে চললাম।

একটা ধীর গতির পায়ের শব্দ ভেসে এলো। শব্দ টা আমারই কিনা জানার জন্য দাঁড়ালাম। শব্দ টা থেমে গেল। নিশ্চিন্ত হয়ে যেই এগিয়েছি, মনে হলো কেমন একটা ঠান্ডা হাওয়া আমার কানের পাশ থেকে বেরিয়ে গেল। গা টা আরো ছমছম করতে লাগলো।

খানিকটা এগিয়েছি, কানে এলো নুপুরের শব্দ। প্রথমটায় icard এর চাবির গোছা থেকে আসছে ভেবে শান্তনা দিয়েছিলাম, কিন্তু যতই এগোতে থাকলাম, শব্দ টা ততই স্পষ্ট হতে থাকলো। হন্তদন্ত হয়ে পা চালালাম।

ওপর প্রান্তের দরজার কাছে পৌঁছাতে যাবো, এমন সময় আবার আমার নাম ধরে ডাক। এ ডাক আগের চেয়েও স্পষ্ট। মনে হলো কোনো দূর থেকে ভেসে আসছে। মনে হলো যেন কেউ দাঁড়িয়ে বা বসে নয়, উড়ন্ত অবস্থায় ডাক দিচ্ছে। আমার মতো ছেলেও সেদিন খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কোনো মতে করিডোরের দরজাটা খুলে প্রাণপণে ছুট দিলাম নিচের তলায়।

সেদিনের পর আর রাতে অমুখো হইনি। জানিনা সেসব স্বপ্ন ছিল না বাস্তব, কিন্তু আজ লেখার সময়তেও সে সব স্পষ্ট মনে পড়ছিল। সেদিনের কথা ভাবলেও শরীরটা কেমন শিহরিত হয়ে ওঠে। রাতের অন্ধকারে যখনই সে কথা ভাবি, মনে হয় হয়তো পাশেই কেউ...


বি:দ্র: এর সাথে আমার বর্তমান অফিসের কোনো সম্পর্ক নেই।

Comments

Popular posts from this blog

প্রেতের কান্না - শ্রীযোগেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে অনেকক্ষণ। পৃথিবীর বুকে নেমে এসেছে জমজমাট অন্ধকার। দেবকুমার বুঝতে পারল সে পথ হারিয়ে ফেলেছে—বন্ধু রজতের বাড়ি খুঁজে বার করা একেবারেই অসাধ্য। কত চেষ্টাই তো করল সে! কিন্তু রজতের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পথ সে খুঁজে বার করতে পারল না । মনে মনে জেগে ওঠে তার শত অনুতাপ। রজত তাকে বারণ করেছিল। সে বলেছিল বারবারই, “শোনো দেবকুমার, এসব পাহাড়ে জায়গা একেবারেই ভালো নয়, এখানে-সেখানে কত বিপদ ওৎ পেতে বসে আছে! কাজেই বিকেল পাঁচটা না বাজতেই ফিরে এসো !” সে তখন হেসেছিল বিদ্রুপের হাসি! একটা শক্ত-সমর্থ জোয়ান ছেলে সে, পাহাড়ে পথ বলেই কি তার বিপদ হবে? সে কি পাঁচ বছরের কচি ছেলে যে তাকে সহজেই কেউ বিপদে ফেলতে পারে? তখন এমনি কত কথাই তার মনে হয়েছিল, কিন্তু এখন ? এখন যে বাচ্চা ছেলের মতোই সে পথ হারিয়ে ফেলল ? এখন কোথায় সে যাবে? কেই বা তাকে আশ্রয় দেবে? হ্যাঁ, ঐ যে দূরে একটা আলো দেখা যায় না? দেবকুমারের আশা হল, নিশ্চয়ই ঐখানে কোনো বসতি আছে, ওখানে গেলে সে নিশ্চয়ই একটু আশ্রয় পেতে পারে। দেবকুমার জোরে পা চালিয়ে দিল। মিনিট দশেক পরেই দেখা গেল, এক প্রকাণ্ড বাড়ি তার সুমুখে দাঁড়িয়ে। বাড়িটি জীর্ণ পুরা...

একটি বিশ্রী অবয়ব - তানজিনা তানিয়া

অায়নার সামনে দাঁড়াতেই অাবারো অামার সামনে সেই বিশ্রী অবয়ব টা ভেসে উঠলো। অামি ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম। রাসফি দৌড়ে এসে অামার বাহু দু হাতে অাঁকড়ে ধরে বললো -তোমাকে না কতদিন বলেছি, যেহেতু অায়নার সামনে দাঁড়ালে তোমার সমস্যা হয়, তাহলে অায়নার সামনে অার দাঁড়াবে না। অামি কাঁদো কাঁদো গলায় বললাম -কে যেন অামাকে জোর করে এনে অায়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। অামি শত চেষ্টা করেও অাটকাতে পারি না। অায়নাটা অামাকে ভীষণভাবে টানে। রাসফি প্রচুর রেগে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের অায়নাটার গায়ে ফুলদানি দিয়ে সজোড়ে অাঘাত করে ভেঙে ফেললো, সাথে সাথে ড্রেসিং টেবিল থেকে লাল তরল পদার্থ বের হতে থাকলো। অামি ভয়ে চিৎকার দিয়ে রাসফিকে জড়িয়ে ধরলাম। রাসফির চোখ-মুখ শক্ত হয়ে গেছে ভয়ে। ড্রেসিং টেবিলের অায়না ভাঙলে সেখান থেকে রক্ত বের হতে পারে, সেটা রাসফি কেন অামরা কেউ কখনো কল্পনা করি নি! মুহুর্তে রক্তে অামাদের পুরো রুমের মেঝে ভরে গেলো। অামরা অাশ্চর্য হয়ে লক্ষ করলাম, রক্তটা নিজে নিজে এক একটা অক্ষরে পরিণত হচ্ছে। প্রথমে 'ন' 'র' 'জ' হলো তারপর সেগুলোতে ই-কার, অা-কার বসে একটা নাম হয়ে গেলো। পরিপূর্ণ নাম। "নিরাজ"। কিন্তু ...

পূণিমার রাত

সেদিন ছিল পূণিমার রাত । রাত প্রায় তিনটা বাজে । আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ছিলাম । বাসার সবাই ঘুম । হঠাৎ ছাদ থেকে ধুপ ধুপ শব্দ ভেসে এলো । বিকেল বেলায় আমরা ছাদে খেললে যেমনটি শব্দ হয় ঠিক তেমনটি । আমি বেশ অবাক হলাম , এতো রাতে ছাদে আবার কে খেলছে ! কাকু আর আমি একই রুমে থাকি । বেশ কয়েকবার শব্দ হওয়ায় কাকুকে ডাক দিলাম । কাকুর উঠার নামটি নেই । নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে । অনেকক্ষন ডাকা ডাকি করার পরে কোন রকম মাথা তুলে বললেন তুই গিয়ে দেখনা কে ? ইদুর টিদুর হবে হয়তো । বলে কাকু আবার নাক ডাকতে শুরু করলেন । এদিকে ছাদের শব্দ দৌড়া দৌড়ি পর্যায় পৌছে গেছে । আমি আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করলাম আমার তেমন ভয় করছেনা । বরং দেখতে ইচ্ছে করছে এতো রাতে ছাদে কে দৌড়া দৌড়ি করছে । আমাদের রান্না ঘরের দেয়ালে মা ছাদের চাবি ঝুলিয়ে রাখেন । আমি ঘর থেকে বেড় হয়ে ছাদের চাবি নিলাম । আমাদের ফ্লাট থেকে বেড় হতেই ডান দিক দিয়ে উঠে গেছে ছাদের সিঁড়ি । প্রতিটি বারান্দায় বাতি জ্বলছে । তিন তলার বারান্দা গুরে ছাদের সিঁড়ি । আমি ছাদের সিঁড়িতে উঠার পরও আমার কোন ভয় লাগছিল না । তিন তলা থেকে ছাদের দরজা দেখা যায় । বন্ধ দরজা । তালা দেখা যাচ্ছে । তবে ছাদে শব্দ করছে কে ?...