Skip to main content

রহস্যময় টয়লেট

ঘটনাটি এক ট্রাক ড্রাইভারের। সে একবার ঢাকা থেকে গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম আসছিল ।চট্টগ্রাম এর কাছাকাছি সীতাকুণ্ড নামক এলাকায় আসতে আসতে রাত ১১/১২বেজে যায়, তার সাথে তার হেল্পার ছিল । এরমধ্যে সে একটি চা এর দোকান দেখে সেখানে চা খেতে নামে ।চা খাওয়ার এক পর্যায়ে সে (ড্রাইভার) বলে যে তার একটু টয়লেটে যেতে হবে। তখন সে চা দোকানদারকে জিজ্ঞেস করে আশেপাশে কোথাও টয়লেট আছে কি না।দোকানদার তার দোকানের পিছনে দেখিয়ে বলে যে একটু ভেতরে একটি পুরান টয়লেট আছে। তারা ওটাই ব্যাবহার করে। তবে সে ওই ড্রাইভার কে সাথে কেউ একজনকে নিয়ে যেতে বলল । বলে রাখা ভাল', টয়লেটটা যেখানে ছিল সে জায়গাটা একটু জঙ্গল টাইপের ছিল ।চা এর দোকানে কয়েকজন লোক ছিল তাইসে (ড্রাইভার) একটু সাহস দেখিয়ে বলল কাউকে লাগবে না সে একাই যেতে পারবে । তো লোকটি জঙ্গলের ভিতরে গেলো এবং টয়লেট খুঁজতে লাগলো। কিছুক্ষণ খোঁজার পরযখন পেলনা , আর দেখল যে জঙ্গলে কেউ নেই তখনসে একটি গাছের আড়ালে বসে পড়লো । তার প্রয়োজন শেষ হওয়ার পর সে যখন দোকানের দিকে আসছে , তখন সে হটাৎকরে দেখতে পেল একটা জায়গায় দুটি ছোট মেয়ে বসে বসে কি যেন করছে।সে একটু ভয়পেয়ে যায় এটা দেখে । কিন্তু তারপরও সে মেয়ে দুটির কাছে যায় আর বলে ‘‘এই তোমরা এত রাতে এখানে কি কর’’ এই কথা বলার কিছুক্ষণ পরমেয়ে দুটি একসাথে তার দিকে তাকায় এবং তার (ড্রাইভার)মতে সে দেখলযে মেয়ে দুটির মুখমণ্ডল একদম ফ্যাঁকাসে আর তাদের চোখ গুলোছিল অস্বাভাবিক ভাবে বড় এবং মুখে ছোপ ছোপ রক্ত লেগে আছে যেন তারা কিছু একটা এতক্ষন খাচ্ছিল!! এই দৃশ্য দেখার পর সে আর এক মুহূর্ত দেরি না করে চিৎকার দিয়ে দৌড়াতে আরম্ভ করে ।সে প্রানপনে দৌড়ে যাচ্ছে কিন্তু তার কাছে মনে হচ্ছিলো যেন সে একই জায়গায় বৃত্তাকারে দৌড়ে যাচ্ছে । কিছুক্ষন পর সে এবং দিক ঠিক করার জন্য আশেপাশে তাকায় । হটাৎ সে দেখল যে সেই মেয়েদুটি তারদিকে দৌড়ে দৌড়ে আসছে তাদের মুখে এখনো রক্ত মাখা, সে দৌড়াতে আরচিৎকার করতে থাকে কিন্তু সে কিছুক্ষন পরে অনুভব করে কে যেন তারপা আগলে ধরেছে! তাকিয়ে দেখে যে, তাকে ওই মেয়ে দুটো তাকে ধরে ফেলেছে!সে আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারল না ।অতিরিক্ত ভয়ের কারনে অজ্ঞানহয়ে পরে যায়। সে যখন চোখ খুলে তখন সে নিজেকে আবিষ্কার করে চায়ের দোকানটাতে বেঞ্চিতে শোয়া অবস্থায় । এবং তার চারপাশে কিছু মানুষ তাকে দেখছে । সে একটু সুস্থ হয়এবং উঠে বসে । তারপর তার হেল্পার তাকে কি হয়েছে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে সে সবঘটনা খুলে বলে । সব শুনে তার হেল্পার এবং দোকানদার বলে যে তুমি যাওয়ার অনেকক্ষণ পরও যখন দেখলাম তুমি আসছ না তখন ভাবলাম যে তোমারচাপ হয়তো বেশী তাই দেরি হচ্ছে । কিন্তু কিছুক্ষন পর শুনলাম কে যেন জঙ্গলের ভেতর দৌরাচ্ছে ।তো কিছুক্ষন পর আমরা কয়েকজন ভেতরে যাই এবং তোমাকে টয়লেট হতে অনেক দূরে পরে থাকা অবস্তায় পাই । কিন্তু তোমার চিৎকারের আওয়াজ আমরা কেউ শুনিনি ।সবশোনার পর দোকানদার বলে যে এই জন্য আমি তোমাকে সাথে করে কাউকে নিয়ে কিন্তু তুমি শুননি । এখানে অনেকে অনেক কিছু দেখে আমরা দিনের বেলাই ওখানে যেতে ভয় পাই আর তুমি রাতের বেলা ওখানে গেছো । তারপর একসময় সকাল হয় তারা ওই দোকানেই বসে থাকে সকাল হওয়ার পরতারা জঙ্গলের ভেতর ওই জায়গাটাতে যায় যেখানে সে (ড্রাইভার) দেখেছিল মেয়ে দুটি কে, তারা সেখানে যাওয়ার পর তারাদেখে যে সেখানে একটি আধা খবিচ্ছিন্ন বিড়ালের মত কিছু একটা পরে আছে । তারপর তারা গাড়ি নিয়ে সে স্থান ত্যাগ করে ।
Net Collected

Comments

Popular posts from this blog

প্রেতের কান্না - শ্রীযোগেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে অনেকক্ষণ। পৃথিবীর বুকে নেমে এসেছে জমজমাট অন্ধকার। দেবকুমার বুঝতে পারল সে পথ হারিয়ে ফেলেছে—বন্ধু রজতের বাড়ি খুঁজে বার করা একেবারেই অসাধ্য। কত চেষ্টাই তো করল সে! কিন্তু রজতের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পথ সে খুঁজে বার করতে পারল না । মনে মনে জেগে ওঠে তার শত অনুতাপ। রজত তাকে বারণ করেছিল। সে বলেছিল বারবারই, “শোনো দেবকুমার, এসব পাহাড়ে জায়গা একেবারেই ভালো নয়, এখানে-সেখানে কত বিপদ ওৎ পেতে বসে আছে! কাজেই বিকেল পাঁচটা না বাজতেই ফিরে এসো !” সে তখন হেসেছিল বিদ্রুপের হাসি! একটা শক্ত-সমর্থ জোয়ান ছেলে সে, পাহাড়ে পথ বলেই কি তার বিপদ হবে? সে কি পাঁচ বছরের কচি ছেলে যে তাকে সহজেই কেউ বিপদে ফেলতে পারে? তখন এমনি কত কথাই তার মনে হয়েছিল, কিন্তু এখন ? এখন যে বাচ্চা ছেলের মতোই সে পথ হারিয়ে ফেলল ? এখন কোথায় সে যাবে? কেই বা তাকে আশ্রয় দেবে? হ্যাঁ, ঐ যে দূরে একটা আলো দেখা যায় না? দেবকুমারের আশা হল, নিশ্চয়ই ঐখানে কোনো বসতি আছে, ওখানে গেলে সে নিশ্চয়ই একটু আশ্রয় পেতে পারে। দেবকুমার জোরে পা চালিয়ে দিল। মিনিট দশেক পরেই দেখা গেল, এক প্রকাণ্ড বাড়ি তার সুমুখে দাঁড়িয়ে। বাড়িটি জীর্ণ পুরা...

একটি বিশ্রী অবয়ব - তানজিনা তানিয়া

অায়নার সামনে দাঁড়াতেই অাবারো অামার সামনে সেই বিশ্রী অবয়ব টা ভেসে উঠলো। অামি ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম। রাসফি দৌড়ে এসে অামার বাহু দু হাতে অাঁকড়ে ধরে বললো -তোমাকে না কতদিন বলেছি, যেহেতু অায়নার সামনে দাঁড়ালে তোমার সমস্যা হয়, তাহলে অায়নার সামনে অার দাঁড়াবে না। অামি কাঁদো কাঁদো গলায় বললাম -কে যেন অামাকে জোর করে এনে অায়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। অামি শত চেষ্টা করেও অাটকাতে পারি না। অায়নাটা অামাকে ভীষণভাবে টানে। রাসফি প্রচুর রেগে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের অায়নাটার গায়ে ফুলদানি দিয়ে সজোড়ে অাঘাত করে ভেঙে ফেললো, সাথে সাথে ড্রেসিং টেবিল থেকে লাল তরল পদার্থ বের হতে থাকলো। অামি ভয়ে চিৎকার দিয়ে রাসফিকে জড়িয়ে ধরলাম। রাসফির চোখ-মুখ শক্ত হয়ে গেছে ভয়ে। ড্রেসিং টেবিলের অায়না ভাঙলে সেখান থেকে রক্ত বের হতে পারে, সেটা রাসফি কেন অামরা কেউ কখনো কল্পনা করি নি! মুহুর্তে রক্তে অামাদের পুরো রুমের মেঝে ভরে গেলো। অামরা অাশ্চর্য হয়ে লক্ষ করলাম, রক্তটা নিজে নিজে এক একটা অক্ষরে পরিণত হচ্ছে। প্রথমে 'ন' 'র' 'জ' হলো তারপর সেগুলোতে ই-কার, অা-কার বসে একটা নাম হয়ে গেলো। পরিপূর্ণ নাম। "নিরাজ"। কিন্তু ...

পূণিমার রাত

সেদিন ছিল পূণিমার রাত । রাত প্রায় তিনটা বাজে । আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ছিলাম । বাসার সবাই ঘুম । হঠাৎ ছাদ থেকে ধুপ ধুপ শব্দ ভেসে এলো । বিকেল বেলায় আমরা ছাদে খেললে যেমনটি শব্দ হয় ঠিক তেমনটি । আমি বেশ অবাক হলাম , এতো রাতে ছাদে আবার কে খেলছে ! কাকু আর আমি একই রুমে থাকি । বেশ কয়েকবার শব্দ হওয়ায় কাকুকে ডাক দিলাম । কাকুর উঠার নামটি নেই । নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে । অনেকক্ষন ডাকা ডাকি করার পরে কোন রকম মাথা তুলে বললেন তুই গিয়ে দেখনা কে ? ইদুর টিদুর হবে হয়তো । বলে কাকু আবার নাক ডাকতে শুরু করলেন । এদিকে ছাদের শব্দ দৌড়া দৌড়ি পর্যায় পৌছে গেছে । আমি আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করলাম আমার তেমন ভয় করছেনা । বরং দেখতে ইচ্ছে করছে এতো রাতে ছাদে কে দৌড়া দৌড়ি করছে । আমাদের রান্না ঘরের দেয়ালে মা ছাদের চাবি ঝুলিয়ে রাখেন । আমি ঘর থেকে বেড় হয়ে ছাদের চাবি নিলাম । আমাদের ফ্লাট থেকে বেড় হতেই ডান দিক দিয়ে উঠে গেছে ছাদের সিঁড়ি । প্রতিটি বারান্দায় বাতি জ্বলছে । তিন তলার বারান্দা গুরে ছাদের সিঁড়ি । আমি ছাদের সিঁড়িতে উঠার পরও আমার কোন ভয় লাগছিল না । তিন তলা থেকে ছাদের দরজা দেখা যায় । বন্ধ দরজা । তালা দেখা যাচ্ছে । তবে ছাদে শব্দ করছে কে ?...