ওই, মুখ লুকিয়ে চললে তোকে দেখতে পাবোনা ভেবেছিস? আমার টাকা-টা কবে দিবি?টাকা খেয়ে বসে আছিস, নেয়ার বেলায় টাকা নিয়েছিস আর দেওয়ার বেলায় টাকা দেওয়ার নাম নেই।।।
সুমন - " দাঁড়ান দাদা, আজকে বিলে জাল ফেলবো।।যা মাছ জালে উঠবে।।।।টা বিক্রি করে যতোটাকাই উঠুক আপনাকে কিছুটা শোধ করে দেবো।।
অজয় - আরে না, না।।।।পুরো টাকা চাই আমার।।।।ওসব কম-টম দেওয়ার চেষ্টা করিস না।।।
এই বলে অজয় কড়া মেজাজ নিয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলো, তখন পাড়ার দুটো বাচ্ছা ছেলে ধরলো গল্প বলার জন্য।।।।অজয় ওদের মাঝেমধ্য গল্প শোনাতো।।।বাইরে থেকে রাগ দেখালেও, অজয় বাচ্চা খুব ভালোবাসে।।।।সে বললো...বল কিসের গল্প শুনবি?
বাচ্চাগুলো বললো - ভূতের গল্প শোনাও।।।।
অজয় - আরে ধুর, ভূতপ্রেত।।ভূত বলে কিছু হয়না। সারাদিন ভূত ভূত।।যা এখন বাড়ি যা।।।সারাদিন ভূত ভূত করবি? আর রাত হলে বাথরুম যেতে গেলে চিৎকার করবি।আজ রাতে কাজে যাওয়ার আগে যদি তোর চিৎকার শুনিনা।।।যদি শুনি তুই তোর মা'কে বাথরুম যাওয়ার জন্য দেখেছিস।।।।তাহলে দেখবি তোকে কাল কি করি।।।।তখন বিকেল বেলা, অজয় স্নান সেরে নিলো।।।তারপর খাওয়া-দাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়লো, রাত তখন ৯.০০ টা বাজে।।।অজয় এবার ঘুম থেকে উঠে পড়লো।।হাত-মুখ ধুঁয়ে টিফিন নিয়ে বেড়িয়ে পড়লো গোলার দিকে।।অজয় একটা ট্রাক ড্রাইভরের হেল্পার।।অজয় গোলায় যাওয়া মাত্র।।।সোমনাথ দার সাথে দেখা।।।।।অজয়-কে দেখা মাত্র সোমনাথ বললো - তাড়াতাড়ি চল অজয়।।।।আজ কোনো খালাসি নেই, খালাসি সব সকালে কলকাতা গেলে ওখানে পাবো।।কলকাতায় যেতে হবে আমাদের।।।।।মালিকের থেকে রাতের ভাড়া ৩০০০ টাকা, তোর খরচা।।সাথে জল খাবারের টাকা, পেট্রোল খরচা তুলে নিয়েছি।।কলকাতা যেতে হবে। ওখান থেকে একটিপ যেতে মাল যাবে ( সিমেন্টের বস্তা) নৈহাটি-তে।।আর তারপর আবার আমাদের কলকাতা ফিরে যেতে হবে ওখান থেকে আমাদের গোলার মালিকের মালপত্র নিয়ে আসতে হবে।।।খালাসিরা সব কলকাতায় চলে গেছে আগের লরিতে।।তুই আমার সাথে চল।।আমি তোর জন্য অপেক্ষা করছিলাম।।
অজয় - অহহহহ তো আগে যে লরি নিয়ে গেছে ওটা কখন ফিরবে?
সোমনাথ (ড্রাইভর দা) - আরে কাল আমাদের সাথেই আসবে।।তুই একটা বালতি খাবার জল নিয়ে আয়।।আমি লরি-টা পূজো দিয়ে স্টার্ট করছি।।।।।অজয় এক বালতি জল নিয়ে লরিতে উঠে পড়লো।।।।এখন নভেম্বর পড়েওনি ঠিকঠাক কিন্তু নদীয়ার সেই বিখ্যাত চূর্ণী নদী, আর বাঁশ বাগান থাকলে কি শীত না এসে পারে????চূর্ণী নদী বলতে মনে পড়লো এই নদী নিয়ে অনেক গল্প আছে যা বললে হয়তো শেষ করা যাবেনা।।।।যাইহোক গল্পে ফিরে আসি।।।।
তো সোমনাথ দাদা গাড়ি চালাচ্ছে।।।অজয় কিছুক্ষন চুপচাপ থাকার পর গল্প জুড়ে দিলো দাদার সাথে।।।কত রাজ্যর গল্প তার মাথা মুন্ডু নেই।।।।হঠাৎ ভূতের প্রসঙ্গ আসতেই।।।অজয় হেসে উঠলো, সাথে সোমনাথ দাদাও।।।।কারণ ওরা দুইজনেই ভূত বিশ্বাস করেনা। আমাদের এখানে কল্যাণী হাইওয়ে বলে একটা সড়ক আছে।।।তো ওই রাস্তা দিয়েই আপাতত বড়ো বড়ো ট্রাক গুলো কলকাতায় যায়।।।সে যে কত স্পীডে গাড়ি গুলো চলে তা না দেখলে বিশ্বাস হবেনা। বিশেষ করে রাতের বেলায়।।।।পাগলা ষাঁড়ের মতোন গতিতে ছুটে চলে।।।।কল্যাণী এক্সপ্রেস ওয়ে আসতে এখনো ঘন্টা খানেক বাকি।।।এমন সময় রাস্তার সামনে একটা ধাবা চোখে পড়লো সোমের।।।।সোম বললো - অজয় তুই যা, গিয়ে এক প্যাকেট চানাচুর, আর দুই থালা পরোটা মাংসের তরকারি।।আর যদি পাস একটা জলজিরাই হোক কিংবা Eno র প্যাকেট কিনে রাখ।।
অজয় একটা মুচকি হাসি দিয়ে বেড়িয়ে গেলো।।।অজয় বুঝে গেলো সোম দাদা গা গরম করবে একটু নাহলে এনার্জি পাবে কিভাবে.....ধাবা থেকে খেয়ে বেড়িয়ে পড়বে দুইজনে তখনি অজয় লরি-তে উঠার আগে দেখতে পেলো একটা এম্বুলেন্স প্রচন্ড গতি-তে সোজা বেড়িয়ে গেলো।।অজয় লরি-তে উঠে পড়লো।।।
অজয় একটা মুচকি হাসি দিয়ে বেড়িয়ে গেলো।।।অজয় বুঝে গেলো সোম দাদা গা গরম করবে একটু নাহলে এনার্জি পাবে কিভাবে.....ধাবা থেকে খেয়ে বেড়িয়ে পড়বে দুইজনে তখনি অজয় লরি-তে উঠার আগে দেখতে পেলো একটা এম্বুলেন্স প্রচন্ড গতি-তে সোজা বেড়িয়ে গেলো।।অজয় লরি-তে উঠে পড়লো।।।
এবার গল্পের বাকি অংশ-টা পড়বার আগে আপনাদের কাছে অনুরোধ রহিলো গল্পটা একটু কল্পনা করবেন।।
সোম গাড়ি চালানোর সময়, যদিনা খুব জাঁকিয়ে শীত পড়ে তাহলে চাঁদর পড়েনা।।কিন্তু আজ তার প্রচন্ড শীত লাগছে।।।ধাবা-তে গা গরম করবার সামান্য পানীয় খেয়েছে, কিন্তু গা আজ গরম হয়নি তার।যাইহোক সে তবুও খালি গায়েই লরি চালাচ্ছিলো।।রাত তখন কটা বাজে খেয়াল নেই।।।লরি-টা এখন কোন রাস্তায় আছে সেটা চেনা যাচ্ছেনা আপাতত।।।তবে এক্সপ্রেস ওয়ে -তএ আসতে আর বেশী দেরি নেই।।।।।এমন সময় লরি-টাকে অভারটেক করে একটা এম্বুলেন্স চলে গেলো সাঁ সাঁ করে।।।।।অজয় তার পাশের জানলা-টা কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলো।।এমন সময় আরও একটা এম্বুলেন্স অজয়ের পাশ দিয়ে সাঁ সাঁ করে সোজা এগিয়ে চলে গেলো।।।।।
ড্রাইভর দাদার মুখে একটু হলেও ঠান্ডার অনুভূতির ছাপ।।।।।অজয় গল্প করা শুরু করলো।..গল্পের আসর জমে উঠলো।।এমন সময় আবারো তাদের গল্পের আসরে ভূতের প্রসঙ্গ চলে আসলো।।আবার তারা দুইজনে ব্যাপার-টা হেসে উড়িয়ে দিলো।।এমন সময় সোমের পাশ দিয়ে একটা এম্বুলেন্স চলে গেলো সামনের দিকে দ্রুত গতিতে, এবার অজয়ের পাশ দিয়ে একটা এম্বুলেন্স সোজা চলে গেলো।।।তারপর আরও একটা এম্বুলেন্স সোমের পাশ দিয়ে চলে গেলো, তারপর আবার অজয়ের পাশ কাটিয়ে একটা এম্বুলেন্স সামনের দিকে এগিয়ে গেলো।।।।
অজয় - কি ব্যাপার???বলো তো দাদা এতো এম্বুলেন্স কোথায় যাচ্ছে???ব্যাপার-টা ঠিক সুবিধার ঠেকছে না।।
সোম - আরে হবে হয়তো কিছু একটা হয়েছে কাল সকালে পেপার না পড়লে বোঝা যাবেনা।।।তুই ভয় পাচ্ছিস নাকি??
অজয় - ভয় পেলে রাতে কাজ করতাম না।।
সোম - আরে জানি আমি....এইজন্য তো রাত বিরেতে তোকে পাশে রাখি।।।জানি তোর যেমন মুখের ভাষা সেমনি সাহস।।।।তুই ভয় পাবি কেন?ভয় তোকে পাবে।।।কথাটা শেষ হওয়া মাত্র ওদের লরির দুইপাশ দিয়ে লাইন দিয়ে এম্বুলেন্স সোজা সাঁ সাঁ গতিতে এগিয়ে চলছিলো।।।।লাইন ধরে এগোচ্ছিলো এম্বুলেন্স গুলো, যেই লরি-কে পাশ কাটিয়ে আগে এগিয়ে গেলো এম্বুলেন্স গুলো, তখন এম্বুলেন্স গুলো যে যার মতোন বিক্ষিপ্ত হয়ে যে যার মতোন একি-ই গতিতে ছুটে চলছিলো।।।।।সোম দেখলো গাড়ির গতি এখন ৮৫-এ আছে।।।।আর এম্বুলেন্স গুলো লরি-কে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে মানে।।মিনিমাম ভালোই স্পীডে টানছে গাড়ি গুলো।।।।কিন্তু এতো জোড়ে, এতো গুলো এম্বুলেন্স কোথায় যাচ্ছে?
সোম আর অজয় দুইজনেই একে অপরের মুখের দিকে তাকাচ্ছে।।।।।এমন সময় একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটলো।।।।মনে হলো লরির উপর বেশ কিছু ভারী বস্তু চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।।।লরির গতি ৮৪.....৮৩...৮২... এইভাবে নীচে নামতে থাকে।।।।।ড্রাইভর বুঝতে পারে লরিতে বেশ ভালোই ওজন বেড়ে গেছে।।।।কিন্তু এখন এতোরাতে ফাঁকা রাস্তায় কিভাবে লরিতে মাল তুললো? আর কেইবা তুললো??
ঠিক সেই সময় তাদের সামনে যতোগুলো এম্বুলেন্স ছিলো, সব কটা এম্বুলেন্সের পেছনের ডিকি গুলো আপনা আপনি খুলে গেলো, এবং ভেতর থেকে একটা সাদা কাপড় জড়ানো লম্বা বস্তু রাস্তায় আপনা আপনি ওই গাড়ির ভেতর থেকে গড়িয়ে গড়িয়ে নীচে নেমে এলো, যেনো কেউ গাড়ির ভেতর থেকে ওই কাপড় জড়ানো বস্তু গুলো রাস্তায় গড়িয়ে ফেলে দিয়েছে।।ড্রাইভার দ্রুত ব্রেক কষে।।।।অজয় লরির দরজা খুলে দ্রুত নীচে নেমে আসে, পেছন দিয়ে ড্রাইভর বলে উঠলো - অজয় গাড়িতে উঠে আয়।।।।
কি আশ্চার্য এম্বুলেন্স গুলো এবার দাঁড়িয়ে পড়েছে।।কতগুলো এম্বুলেন্স এখানে আছে তা গুণে শেষ করা যাবেনা অজয় এক পা এক করে এগিয়ে যাচ্ছে সামনে, এবার সোম ও নেমে এক পা, এক পা করে এগিয়ে যাচ্ছে।।।।।সামমের দিকে এমন সময় তারা ওই সাদা কাপড় জড়ানো এম্বুলেন্স থেকে ফেলে দেওয়া একটা বস্তুর দিকে এসে থেমে যায়।।।সারা রাস্তা ভরতি সাদা কাপড়ে ঢাকা বস্তু গুলো,অজয় আর সোম দুইজনেই সাহস করে একটা একটা করে সাদা কাপড়ে ঢাকা বস্তুটার থেকে কাপড় সরায়।।।কি আশ্চার্য।।ওটা একটা লাশ ছিলো সোম ওই লাশে নিজের চেহারা দেখতে পায়।।।।।আর অজয়, অজয় ও নিজের রক্তাক্ত মুখ ওয়ালা লাশ দেখে।।সোম ওই দেখে নিজেকে ঠিক রাখতে পারেনা....মনে হচ্ছিলো ওইখানেই সোম মাথা ঘুড়ে পড়ে যাবে অজয় কোনো রকমে সোম-কে ধরে ধরে লরির কাছে নিয়ে আসে।।।।দূর থেকে অজয় দেখতে পেলো ওই লাশ গুলো একে একে করে মাটির উপরে উঠে দাঁড়ালো।।।এবং এক পা এক পা করে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে।।।এদিকে সোম অজ্ঞান হয়ে গেছে।।অজয় কোনো রকমে টেনে হেঁচড়ে....সোম-কে লরি-তে তুললো।।।।তারপর নিজে উঠলো।।।এদিকে ওই লাশ গুলো তাদের দিকে এগিয়ে আসছে।।।।অজয় খাবার জলের বালতি-টা থেকে জল নিয়ে সোমের চোখেমুখে জল ছেঁটাতে লাগলো।।একসময় সোমের জ্ঞান ফেরে।।সেই সময় লরির সামনে লাশ গুলো চলে আসে।।লরির চালকের পাশে দরজায় প্রথমে টোকা পড়লো।।।।তারপর ধড়াম ধড়াম আওয়াজ করতে থাকলো লাশ গুলো।।এবার অজয়ের পাশের দরজায় ধড়াম ধড়াম আওয়াজ করতে লাগলো লরির বাইরে দিয়ে।।পুরো লরি-টা নড়ছিলো।।একসময় মনে হচ্ছে লরিটা পড়ে যাবে।।।অজয় বললো গাড়ি স্টার্ট দিয়ে সোজা এগিয়ে চলো।।।।এদিকে সোম তখনো কাঁপছে।।অজয় তার সীটের নীচ থেকে গা পানীয়র বোতল-টা দিলো।।অজয়ের নিজের ভাগের সুরা সে খায়নি।।।।সোম পূরো বোতল-টাই ধকধক করে খেয়ে শেষ করে ফেললো।।।।এবার গাড়ি স্টার্ট দিয়ে সোম ওই লাশ গুলোর উপর দিয়েই লরিটাকে সোজা এগিয়ে নিয়ে গেলো।।।।।কিন্তু আজ তার কোনো নেশা হয়নি, বরং নেশা নেমে গেছে।।।সোম লরি চালানো অবস্থায় বেঁহুশ হবে হবে করছে।।।।হঠাৎ করে ওই এম্বুলেন্স আর লাশ গুলো আস্তে আস্তে হাওয়াই মিলিয়ে গেলো।।।।সোম এবার সোজোরে ব্রেক কষলো।।।অজয় সামনের তার পেছনের ছোটো কাঁচ, যেটা দিয়ে গাড়ির পেছনের মালপত্র ও খালাসি দের দেখা যায় মানে একেবারে মাঝামাঝি অবস্থায় লরির ভেতরে থাকে একটা ছোটো কাঁচ।।।সেই খানে চোখ রেখে দেখতে পেলো একটা মাত্র এম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে আছে।।।যেটা কিনা আর সামনে এগোচ্ছেনা।।।আস্তে আস্তে করে এম্বুলেন্স-টা ওই যায়গাই দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হাওয়াই মিলিয়ে গেলো।।।।ঠিক তখনি কে যেন চিৎকার করে বললো - " আজ বেঁচে গেলি, তবে কোনোদিন না কোনোদিন তো তোদের হাতে পাবোই "
অজয় ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলো ঘড়িতে ৩.৫৫ বাজে।
https://www.facebook.com/VuterAsor.904/posts/2123872854298616?__tn__=K-R
Comments
Post a Comment