মা....অনু মা। আমাকে এক কাপ চা করে দে তো??
- মা???কই গেলি?
অনু - হ্যাঁ দিচ্ছি বাবা
।তুমি হাত মুখ ধুঁয়ে নাও....আমি করে দিচ্ছি।।
।তুমি হাত মুখ ধুঁয়ে নাও....আমি করে দিচ্ছি।।
অনু মোবাইল-টা বিছানায় রেখে চা করতে গেলো।।কিন্তু অনু রান্নাঘরে গিয়ে দেখে দুধ শেষ হয়ে গেছে।।।।
বাবা সারাদিন কাজ করার পর বাড়ি ফিরেছে....বাবাকে বলবো??না থাক আমি নিজেই যাই।।এইভেবে সে নিজেই বাড়ির পাশের মুদিখানা দোকানে গেলো, ওখান থেকে ২১.০০ টাকা দিয়ে একটা দুধের প্যাকেট কিনলো।।।।কিনে অনু বাড়ির দিকে ফিরছে।।দোকান থেকে বাড়ি ফিরতে বড়ো জোড় ৪ কি ৫ মিনিট লাগে।।।।অনু আসছে বাড়ির দিকে।।শীতের রাত।।ঘড়িতে মনে হয় ৭.৩০ বাজে।।অনুর বাড়িতে যাওয়ার কিছুটা আগে একটা পুকুর পড়ে।।।।অনু যখন ওই পুকুর-টার সামনের দিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছে তখন অনু দেখলো, ওই পুকুরের জলের আনুমানিক মাঝখান দিয়ে একটা অদ্ভুত আওয়াজ আসছে।।।।পুকুরের সামনেই লাইট পোস্ট আছে।।।ওই লাইট পোস্টের আলোয় দেখত্র পেলো অনু পুকুরের মাঝখানে জলে থইথই করে আওয়াজ হচ্ছে।।।।অনু ভাবলো হয়তো কোনো মাছ, এইভেবে সে একটা ছোটো ঢিল তুলে ওই পুকুরের মাঝখানে ছুঁড়ে মারে, কিন্তু আওয়াজ-টা বন্ধ না হয়ে, আর জোড়ে জোড়ে জলে থইথই আওয়াজ হতে লাগলো।।।অনু আরও একটা ঢিল তুলে মাঝখানে ছুঁড়ে মাড়োলো।।।।আর চেঁচিয়ে বললো, হুস হুস
।।।।এইবার পুকুরের মাঝে শান্ত - তা গ্রাস করে নিলো।
।।।।এইবার পুকুরের মাঝে শান্ত - তা গ্রাস করে নিলো।
অনু একটু থতমত খেয়ে গেলো, অনু আমতা আমতা করে বাড়ি ফিরেএলো।।বাড়ি এসে অনু রান্নাঘরে গেলো, গিয়ে চা করবার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকলো।।কিন্তু যেই পাত্রে চা করা হয় সেটা প্রচন্ড গরম ছিলো।।অনু ভাবলো এটা এতো গরম কিভাবে?যাইহোক অনু ওই পাত্র-টাতে তাকাতেই দেখলো ওরমধ্য চা-পাতা লেগে আছে।।।।যেন কেউ সদ্য চা করেছে।।অনু ব্যাপার-টা ঠিক নিজের আওতায় আনতে পারলোনা।।অনু চা করলো, করে বাবাকে ডাক দিলো।।তারপর..
বাবা....ও বাবা।।।।
বাবা.....আরে ও বাবা.....ওওওও বাবা।।।বাবা।।
বাবা.....আরে ও বাবা.....ওওওও বাবা।।।বাবা।।
বাবা - হ্যাঁ বল....ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।।।অনুর বাবা চোখ দলতে দলতে রান্নাঘরে এলো।।
অনু - এই নাও চা খাও।।।।
অনুর বাবা - আরে আজ দুইবার চা।।। ক্যা বাত।।।।।বল কাল কি খাবি??
অনু - দুইবার চা মানে?
অনুর বাবা - এইতো কিছুক্ষণ আগেই চা করে দিলি।।।।
অনু পুরো অবাক।।।।অনু তার বাবাকে বললো - তুমি কি মজা করছো, দুধ শেষ হয়ে গেছিলো।।।আমি দুধ এনে এখুনি চা বানালাম।।আর তুমি বলছো চা খেয়ে নিয়েছো।।।
অনুর বাবা - আরে বলনা আজ বাবা-কে দুইবার চা খাওয়াচ্ছিস, কিছু লাগবে তোর।।লাগলে বল আমি দিচ্ছি।।।দে এই বলে চায়ের কাপ-টা নিজের দিকে এগিয়ে নিলো অনুর বাবা।।
অনু একটু অবাক হয়ে যায়।।এরপর অনুর মা বাড়ি আসে, অনুর মা একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে।এইজন্য কোনো কোনোদিন বাইরে থেকে আবার কোনো কোনোদিন বাড়িতে এসেই রান্না করে।।সেদিন অনুর মা বাইরে থেকে খাবার নিয়ে এসেছিলো।।রাতের খাবার পর।।সবাই যে যার ঘরে ঢুকে শুয়ে পড়ে।।রাতের বেলায় অনু অনেকক্ষণ জেগে ছিলো, কিন্তু যখন সে ঘুমিয়ে পড়ে ওইদিন রাতে সেই পুকুর-টার স্বপ্ন দেখে।।
স্বপ্নে সে দেখে দুটো বাচ্চা সাঁতার কাটছিলো।।।।সাঁতার কাটছিলো নাকি খেলছিলো সেটা সে দেখতে পায়না।।।।অনু আরও অবাক হয় যে, সে দেখতে পেলো সে স্বপ্নে নিজেকে দেখতে পারছে....সে একটা দুধের প্যাকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।।।।কিন্তু এটা দেখে অনুর মনে হলো, সে তো রাতের অন্ধকারে দুধ কিনে বাড়ি ফিরছিলো।।।কিন্তু এখন তো পুরো দিন।।হঠাৎ সে দেখতে পেলো, ওই অনু একটা ঢিল তুলে পুকুরে ছুঁড়ে মারে।।।তখন সব ঠিক ছিলো, কিন্তু সমস্যা বাঁধে দুই নম্বর ঢিল-টা ছুঁড়ে মাড়ার ফলে।।।আর ওই ঢিল-টা ওই দুটো বাচ্চার মধ্য একটা বাচ্চার মাথায় লাগে।।ফলে প্রচন্ড রক্ত বেড়োই।।এবং সে বোধহয় মারা যায়।।ততক্ষণে যে অনু দাঁড়িয়ে ছিলো সে বাড়ির দিকে চলে যায়।।এদিকে যেই অনু রাতে স্বপ্ন দেখছে সে তখন ওইখানেই দাঁড়িতে আছে।।।অনু দেখলো ওই দুটো বাচ্চা....একটা বাচ্চা, অন্য একটা বাচ্চাকে মানে যে আহত।।তাকে টানতে টানতে পুকুরের উপরে নিয়ে আসে।।এবং সে কাঁদতে কাঁদতে তাকে ডাকতে থাকে।।।।কিন্তু যার মাথায় আঘাত লেগেছে তারমধ্য কোনো নড়াচড়া লক্ষ করা যায়না।।।।অনু ওদের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখতেই অবাক হয়ে গেলো।।ওরা দুইজনে দুটো ছোটো বাচ্চা, কিন্তু ওদের চোখে কোনো মণি নেই।।আর পুরো চোখ-টা হলুদ রঙের।।।
চিৎকার শোনা মাত্র ওই ছেলেটা অনুর দিকে তাকায় এবং বলে।।
চিৎকার শোনা মাত্র ওই ছেলেটা অনুর দিকে তাকায় এবং বলে।।
কেন করলি এইরকম।।আমরা তো খেলছিলাম।।আমরা তোর কি ক্ষতি করেছি।।অনু এবার চিৎকার করে কেঁদে ফেলে।।।ওই বাচ্চা-টা কাঁদতে কাঁদতে এসে অনুর ডান- হাত-টা চেপে ধরে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।।।।সামনের দিকে।।
তারপর যখন অনুর জ্ঞান ফিরলো তখন অনু নিজেকে নিজের ঘরে আবিস্কার করলো, অনু দেখলো সে নিজের ঘরের মেঝেতে শুয়ে আছে।।মেঝে থেকে উঠে দাঁড়িয়ে দেখলো ঘরের সবকিছু উলটো উলটো।।।মানে জিনিসপত্র গুলো যেটা যেদিকে রাখা সেটা সেদিকে নেই।।হঠাৎ সামনে তাকাতেই দেখে অনুর নিজের মা, অনুর ঘরে এসেছে।।।কিন্তু একি মা, অনুকে দেখতে পারছেনা কেন।।।অনু আস্তে আস্তে সামনের দিকে এগিয়ে আসলো হঠাৎ সে আর আসতে পারলোনা....কিসের সাথে যেন সে ধাক্কা খেলো।।।।অনু সোজা তাকিয়ে বুঝতে পারলো যে, সে নিজের ঘরেই আছে আর সে আর কোথাও না নিজের ঘরে আয়নার মধ্য আটকে আছে।।অনু চিৎকার করে তার মা'কে ডাকতে থাকে।।কিন্তু অনুর মা সেগুলো শুনতে পারেনা।।।অনুর মা, অনুর ঘরে ঝাঁড়ু দিচ্ছিলো, তারপর সে খাটের উপর থেকে কাকে যেন ডাকছিলো।।।অনু এবার নিজের বিছানার দিকে তাকায়।।অনু দেখলো বিছানা থেকে কে যেন উপরে উঠে বসলো, অনু যখন তার দিকে তাকায় তখন সে দেখতে পেলো।।।ওটা আর কেউ না।।।অনু নিজেই বিছানায় শুয়ে আছে।।।অনু আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলোনা।।।সে অজ্ঞান হয়ে গেলো।।।।যখন অনুর জ্ঞান ফেরে তখন ও দেখে যে, অনু তখনো আয়নাতে আটকে রয়েছে।।।।।অনু এবার তাড়াতাড়ি উপরে উঠে নিজের রুমের দিকে তাকাতেই দেখে, আয়নার ওপাড়ে একটা মেয়ে বিছানাতে বসে আছে।।।হঠাৎ সে খাট থেকে নেমে ঘরের মধ্য হাটাচলা করতে লাগলো।।।।হঠাৎ সে নিজের ঘরের জানলা দিয়ে লাফ দিয়ে জানলার ওপাড়ে যে কদম গাছ-টা আছে ওইগাছের ডালে গিয়ে দুই হাত-পা দিয়ে গাছ-টাকে আটকে ধরে তারপর আস্তে আস্তে নীচের দিকে নেমে যায়।।।।।কিছুক্ষণ পর অনুর মা অনুর ঘরে এসে.....অনুর জামা কাপড় গুলো গোছাতে লাগলো।।।।এবং ওখান থেকে কিছু জামা কাপড় সম্ভবত কাঁচবার জন্য নিয়ে ঘর থেকে বেড়োতে থাকে।।।অনু তখন চিৎকার করে তার মা'কে ডাকতে থাকে কিন্তু অনুর মা কিছুই বুঝতে পারেনা এবং সে চলে যায়।
দেখতে দেখতে দিনের আলো ফুঁড়িয়ে আসে, রাত নামতে থাকে।।।একসময় আয়নার ওপাড়ের অনু ঘরে আসে।।এবং অনুর জিনিষপত্র গুলো নিয়ে খেলা করতে থাকে।।।অনু আবারো চিৎকার করতে থাকে কিন্তু অনুর চিৎকার কেউ শুনতে পারেনা।।।।অনু বুঝতে পারে অনু হয়তো সারাজীবন এই আয়নাতে বন্দি থাকবে।।।।।অনু ওই যায়গাতে দাঁড়িয়েই নিজের ঘরের দিকে তাকিয়ে রহিলো।।হঠাৎ অনু দেখতে পেলো, ঘন্টিকে।।।ঘন্টি হলো অনুর বিড়াল।।।।সে গিয়ে অনুর খাটে লাফ দিয়ে উঠলো, কিন্তু আয়নার ওপাড়ের অনু তারদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিলোনা।।।।বিড়াল-টার সম্ভবত খিদে পেয়েছিলো, এইজন্য অনুর কাছে আসতে চেয়েছিলো, কিন্তু অনু কোনো ভ্রুক্ষেপ দিলোনা।।ফলে বিড়াল-টা যখন চলে যাবে বলে ঘর দিয়ে বেড়িয়ে যাবে তখন তার চোখ গেলো আয়নার উপর।।।বিড়াল-টা চুপ করে দাঁড়িয়ে গেলো।।।এদিকে আয়নার ভেতরে অনু তখন নিজের বিড়ালের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে।।।।বিড়াল-টা চুপ করে বসে আছে।।।।এদিকে সম্ভবত অনুর মা কাজ থেকে চলে এসেছে ।।।।অনুর ঘরের দরজা খোলায় ছিলো, অনুর মা অনুকে ডাকদিলো খাবারের জন্য এবং অনুও নিজের মায়ের পেছন পেছন চললো, অনুর মা বিড়াল-টাকেও ডাক দিলো কিন্তু বিড়াল-টা ওই জায়গা থেকে নড়ছিলোই না।।।।।অনু তখন চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বিড়াল-টাকে ধরার চেষ্টা করতে থাকলো।।অনুর বিড়াল-টা দুটো হাত আয়নার নীচের দিকে দিয়ে আয়না তাকে খামচানোর চেষ্টা করে।।।তখন অনু আয়নার ভেতরেই বসে নীচের দিকে হাত-টা বাড়ায় এবং ওই বিড়াল-টা যেদিকে হাত রেখেছিলো সেখানে।।।অনু কাঁদতে কাঁদতেই তার বিড়াল-টাকে সব বলতে থাকে।।।।অনুর বিড়াল-টা বেশ পোষ্য।।ছোটোবেলা থেকেই বিড়াল-টাকে খুব ভালোবাসতো অনু।।অনু ইশারা করে তার নিজের ঘরের দিকে ইশারা করে ওই বিড়াল-টাকে বোঝানোর চেষ্টা করলো।।।।যে ওই ঘরে যে আছে সে আসল অনু না।।।।।কিন্তু তারপর এক আশ্চার্য ঘটনা ঘটলো।।হঠাৎ সব অন্ধকার হয়ে গেলো অনু আর নিজের ঘর-কে দেখতে পারলোনা।।।।এবং অনু ওই অন্ধকার ঘরের মেঝেতে শুয়ে পড়লো।।।।অনু ভাবলো আর হয়তো তার বাঁচার সম্ভাবনা নেই।।।।।অনু ওই আয়নার মধ্য যতদিন বন্দি ছিলো ততদিন না খাওয়া অবস্থায় ছিলো।।।।।সে কতদিন আয়নার মধ্য ছিলো সেটার ধারণা তার ছিলোনা।।হঠাৎ একসময় সে অসুস্থ হয়ে পড়লো।।।।ওই ঘরের মেঝেতেই অনু শুয়ে পড়লো।।প্রচন্ড শরীর খারাপ অনুর।।অনুর চোখ-টা বুজে আসছে, হয়তো এটাই তার শেষ রাত।। অনুর জগৎ-টা ছিলো অন্ধকারের, হঠাৎ সে আবারো স্বপ্ন দেখা শুরু করলো।।।অনু দেখলো সে আবারো ওই পুকুরের সামনে দুধের প্যাকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, এবং তখন ও দিনের বেলা।।।অনু দেখলো সে আবারো একটা ঢিল নিয়ে ওই পুকুরের দিকে ছুঁড়ে মারলো।।।কিন্তু ওই জলের মধ্য তখনো থইথই আওয়াজ হচ্ছে।।।।সে আবারো একটা ঢিল তুলে আবার পুকুরে ছুঁড়ে মারলো কিন্তু তখন সে কিছুই দেখলোনা
।পুকুরের জল-টাও শান্ত হয়ে গেলো।।এবার অনু নিজের বাড়ির দিকে চলে গেলো।।।এবার স্বপ্নের অনু জানে তাকে কোথায় তাকাতে হবে।।।
।পুকুরের জল-টাও শান্ত হয়ে গেলো।।এবার অনু নিজের বাড়ির দিকে চলে গেলো।।।এবার স্বপ্নের অনু জানে তাকে কোথায় তাকাতে হবে।।।
অনু তখন পুকুরের দিকে তাকালো এবং দেখলো আবারো সেই ছোটো বাচ্চাটা কাঁদতে কাঁদতে ওই আহত বাচ্চাটা-কে টানতে টানতে উপরে নিয়ে আসে।।।।।ওই বাচ্চাটার মাথা দিয়ে রক্ত বেড়োচ্ছে।।অনু এবারো ওদের চোখের মণির দিকে তাকিয়ে চিৎকার করলো।।।।অনু এগুলো ইচ্ছে করে করছেনা, মনে হচ্ছে এগুলো আপনা আপনি হয়ে যাচ্ছে।।।।
ঠিক তখনি অনুর চিৎকার শোনা মাত্র ছেলেটা অনুর দিকে তাকায় এবং বলে কেন করলি এইরকম।।আমরা তো খেলছিলাম।।আমরা তোর কি ক্ষতি করেছি।।অনু আবারো চিৎকার করে কেঁদে ফেলে।।ওই বাচ্চাটাও কাঁদতে কাঁদতে এসে অনুর ডান-টা চেপে ধরে ছুঁড়ে ফেলতে যাবে।।।ঠিক তখনি অনুর বিড়াল কোথা থেকে দৌঁড়ে এসে ওই ছেলেটার পায়ে কামড় দিয়ে দেয়।।।।আর পেছন থেকে একটা খুব সুন্দর পুরুষ এসে ওই ছেলেটার হাত ধরে হ্যাঁচকা টান দেয়
।।।।ফলে ছেলেটা পেছনে সরে আসে।।।।ওই পুরুষ-টা তার হাত-টা দিয়ে ওই আহত ছেলেটার মাথায় রাখলো এবং ওই ছেলেটা কিছুক্ষণের মধ্য চোখ মেলে তাকালো।।।।ওর সাথে যে অন্য বাচ্চা-টা ছিলো সে তো আহত বাচ্চা-টাকে দেখে খুশিতে লাফিয়ে উঠলো।।।।এবং ওই আহত বাচ্চা-টা মাটি থেকে উঠে দাঁড়ালো, এরপর ওই পুরুষ মানুষ-টা ওই ছেলে দূটো কে বললো, যা ফিরে যা।।।।এবং ওরা দুইজন ওই পুকুরে চলে গেলো।।।।।।ওরা পুকুরে যাওয়া মাত্র অনেক উঁচু দিয়ে কেউ যদি পুকুরে ঝাঁপ দেয়, তবে জল-টা যেইভাবে কেঁপে উঠবে ঠিক সেইরকম ভাবেই জল-টা কেঁপে উঠলো।।
।।।।ফলে ছেলেটা পেছনে সরে আসে।।।।ওই পুরুষ-টা তার হাত-টা দিয়ে ওই আহত ছেলেটার মাথায় রাখলো এবং ওই ছেলেটা কিছুক্ষণের মধ্য চোখ মেলে তাকালো।।।।ওর সাথে যে অন্য বাচ্চা-টা ছিলো সে তো আহত বাচ্চা-টাকে দেখে খুশিতে লাফিয়ে উঠলো।।।।এবং ওই আহত বাচ্চা-টা মাটি থেকে উঠে দাঁড়ালো, এরপর ওই পুরুষ মানুষ-টা ওই ছেলে দূটো কে বললো, যা ফিরে যা।।।।এবং ওরা দুইজন ওই পুকুরে চলে গেলো।।।।।।ওরা পুকুরে যাওয়া মাত্র অনেক উঁচু দিয়ে কেউ যদি পুকুরে ঝাঁপ দেয়, তবে জল-টা যেইভাবে কেঁপে উঠবে ঠিক সেইরকম ভাবেই জল-টা কেঁপে উঠলো।।
এরপর ওই পুরুষ মানুষ-টা অনুর দিকে এগিয়ে আসে....এবং হাটু গেড়ে বসে অনুর দিকে তাকিয়ে বলে - " আবার দেখা হবে " এবং অনুকে ধাক্কা দেয়।।।অনু পেছন ফিরে পড়ে যায়।।।যখন অনুর জ্ঞান ফেরে তখন সে দেখলো সে নিজের ঘরের বিছানায় শুয়ে আছে।।।।।অনুর মা, অনুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।।
অনুর জ্ঞান ফেরামাত্র অনুকে অনুর মা বলে?? তুই শো, উঠিস না এখন??অনু বলে উঠলো - আমিতো আয়নার মধ্য বন্দি ছিলাম আমি কিভাবে এলাম এইখানে।।।।
অনুর মা তখন পুরো ব্যাপার-টা অনুকে বলতে লাগলো।।।।
" বেশ কয়েকদিন ধরে ঘন্টি ( পোষ্য বিড়াল ) খাওয়া দাওয়া ছেড়ে সারাদিন ওই আয়নার সামনে পড়ে থাকতো।।।।অনুর বাবা-মা ব্যাপার-টাকে বেশী গুরুত্ব দিতোনা।।।।কিন্তু দুইদিন আগে অনুর মা, দুপুর বেলায় অফিস যাওয়ার পথে, একটা ছেলে তার পথ আটকায় এবং বলে।।।।আপনার ঘরে গন্ডোগোল আছে, আমি আপনার বাড়িতে যেই অসুবিধা-টা হচ্ছে সেটা ঠিক করে দিতে পারি।।।
অনুর মা ছেলেটাকে ভালোভাবে দেখলো।।।একটা ছেঁড়া প্যান্ট ছেঁড়া, ময়লা জামা পড়ে দাঁড়িয়ে আছে।।ছেলেটাকে দেখে বেজাই ক্ষেপে গেলো অনুর মা।।।তখন সে বললো, আমার ঘরে কিসের অসুবিধা থাকবে??আর কেইবা তুমি আমার পথ ছাড়ো।।।।অফিস যাচ্ছি দেরী হয়ে যাচ্ছে আমার।।।অনুর মা রাতে যখন অফিস থেকে ফিরছিলো তখনো ওই ছেলেটাকে দেখতে পেলো, এবার সে ছেলেটাকে দেখে প্রচন্ড রেগে গেলো।।।।সে বললো - তুমি এইখানে কি করছো??আমি কি লোক ডাকবো???ছেলেটা বললো - আপনার মেয়েকে যেটা ধরেছে সেটা আমি ঠিক করতে পারবো।।।।নাহলে আপনার মেয়ে মারা যাবে।।।।।
কিন্তু অনুর মা বিষয়-টাকে পাত্তা না দিয়ে।।ছেলেটাকে চলে যেতে বললো,এরপর যদি না যায় তাহলে সে লোক ডেকে মার খাওয়ানোর হুমকি দেয়।।।।
যাইহোক সেইদিন সব ঠিক গেলো।।।।পরের দিন রবিবার ছিলো অনুর মায়ের ছুঁটি ছিলো।।।।অনুর মা, ও অনুর বাবা বিকেলের দিকে বেড়িয়ে ছিলেন মাসকাবারির বাজার করতে।।।।কিন্তু বাজার করে যখন তারা বাড়ি ফিরলো তখন তারা উপরে, মানে যেই ঘরে অনু থাকে, সেইঘরটা থেকে অনেক আওয়াজ আসছিলো
।।ওরা ওই আওয়াজ অনুসরন করে অনুর ঘরের দিকে গিয়ে যেই দরজাটা খুললো তখন তারা দুইজন দেখলো অনু ঘরের মেঝেতে শুয়ে আছে আর তার ঠিক পিঠের উপরে ছেলেটা বসে আছে, ওই ছেলেটা অনুর দূটো হাত পেছন থেকে মুড়ে তার নিজের দুইহাত দিয়ে ধরে রেখেছে।।।।অনুর মা যেহেতু ছেলেটাকে চিনতো তাই সে চিৎকার করে বলে উঠলো - আমার মেয়েকে ছেড়ে দাও???এইবলে সে দৌঁড়ে এসে ছেলেটাকে সড়িয়ে ফেলে দিতে চেলো।।।।।কিন্তু ছেলেটা তাকে একটা ধাক্কা দিয়ে ফেলেদিলো।।।ছেলেটা বললো , আমি যা করছি করতে দিন।।।।আপনারা বিরক্ত করেন না।।।।নাহলে আপনাদের আসল মেয়েকে আপনারা কোনোদিন ও ফেরৎ পাবেন না।।।অনুর বাবা দৌঁড়ে নীচে নামতে গেলো, কিন্তু ছেলেটা মুখে কি বীড়বীড় করে বললো, অনুর বাবা তখন মাটিতে পড়ে গেলো।।।অনুর মা বললো তুই এইভাবে ছাড়বিনা, দাঁড়া পাড়ার লোক-কে ডেকে আনি।।।কিন্তু যেই অনুর মা ওখান থেকে বেড়োতে যাবে তখনি শত শত বিড়াল সিঁড়ির মধ্য লাইন দিয়ে আটকে দাঁড়ায়।।।এবং সেই বিড়াল গুলোর মধ্য সবার আগে তাদের নিজেদের বিড়াল-টাই দাঁড়িয়ে ছিলো।।।।ওই ছেলেটা বললো - আপনাদের বাড়ির বিড়াল-টাই আমাকে ডেকে এনেছে..
।।ওরা ওই আওয়াজ অনুসরন করে অনুর ঘরের দিকে গিয়ে যেই দরজাটা খুললো তখন তারা দুইজন দেখলো অনু ঘরের মেঝেতে শুয়ে আছে আর তার ঠিক পিঠের উপরে ছেলেটা বসে আছে, ওই ছেলেটা অনুর দূটো হাত পেছন থেকে মুড়ে তার নিজের দুইহাত দিয়ে ধরে রেখেছে।।।।অনুর মা যেহেতু ছেলেটাকে চিনতো তাই সে চিৎকার করে বলে উঠলো - আমার মেয়েকে ছেড়ে দাও???এইবলে সে দৌঁড়ে এসে ছেলেটাকে সড়িয়ে ফেলে দিতে চেলো।।।।।কিন্তু ছেলেটা তাকে একটা ধাক্কা দিয়ে ফেলেদিলো।।।ছেলেটা বললো , আমি যা করছি করতে দিন।।।।আপনারা বিরক্ত করেন না।।।।নাহলে আপনাদের আসল মেয়েকে আপনারা কোনোদিন ও ফেরৎ পাবেন না।।।অনুর বাবা দৌঁড়ে নীচে নামতে গেলো, কিন্তু ছেলেটা মুখে কি বীড়বীড় করে বললো, অনুর বাবা তখন মাটিতে পড়ে গেলো।।।অনুর মা বললো তুই এইভাবে ছাড়বিনা, দাঁড়া পাড়ার লোক-কে ডেকে আনি।।।কিন্তু যেই অনুর মা ওখান থেকে বেড়োতে যাবে তখনি শত শত বিড়াল সিঁড়ির মধ্য লাইন দিয়ে আটকে দাঁড়ায়।।।এবং সেই বিড়াল গুলোর মধ্য সবার আগে তাদের নিজেদের বিড়াল-টাই দাঁড়িয়ে ছিলো।।।।ওই ছেলেটা বললো - আপনাদের বাড়ির বিড়াল-টাই আমাকে ডেকে এনেছে..
অনুর মা - মানে??কি বলছিস।।।তুই আগে ওকে ছাড় আমি সব শুনছি।।।
ওই ছেলেটা - আমি একে ছাড়লে আপনার আসল মেয়ের খোঁজ পাবেন না। আর এ আপনার মেয়ে নয়।।।এটা একটা পিশাচ।।
সেদিন আমি আপনার বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম।।ঠিক তখনি আমি আপনার মেয়েকে দিনের বেলায় কদম গাছের থেকে নামতে দেখি, প্রথম প্রথম ব্যাপার-টা সোজা সাপ্টা ভাবে নিলেও পরবর্তী সময়ে আমি যখন আবারো এই আপনার বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন আমি আপনাদের বাড়ির ছাদে বেশ কয়েক-টা রঙিণ আলো দেখতে পাই, সম্ভবত ৭ রকমের গোলাকৃতি আলো। যেগুলো গোল আকারে ঘুরছিলো।।।আমি তখনি বুঝতে পারি ব্যাপার-টা সুবিধার না।।।।এই আলো গুলো অন্য জগৎ এর।।যখন কেউ অন্য জগৎ থেকে এই জগৎ এ আসে।।।তখনি এই রকম আলো দেখা যায়।।।।
এরপর আপনাদের বাড়ির বেড়াল-টাকে আমি একসময় রাস্তায় একজনের বাড়ির সামনে বসে থাকতে দেখি।।।।।ওই বাড়িটাতে যিনি থাকেন তিনি ভূত-প্রেত ছাড়াতে পারেন।।।।বিড়াল-টা এক ভাবে ওই বাড়ির সামনে বসে আছে।।।।একসময় কিছু কুকুর ওই বিড়াল-টাকে ঘিরে ধরে, কিন্তু বিড়াল-টা নিজের জায়গা থেকে সরছিলোই না।।।আমি তখন ওই বিড়াল-টার সামনে গিয়ে ওই কুকুর গুলোকে তাড়িয়ে দিই।।কুকুর গুলো যাওয়া মাত্র আমি আপনাদের বাড়ির বেড়াল-টাকে হাত দিয়ে কোলে নিই।।।দেখি বিড়াল-টা ভীষন রেগে রয়েছে।।।আমি বিড়াল-টার মাথায় হাত বুলিয়ে বলি, " আমি জানি তুই কেন বসে আছিস এখানে, চিন্তা করিস না আমি সব ঠিক করে দেবো "
আমি বিড়াল দেখেছি, কিন্তু আপনাদের বাড়ির মতোন বেড়াল দেখিনি।।।।মানুষের কথা বুঝতে পারে এইরকম বিড়াল।।সত্যি খুব অদ্ভুত ব্যাপার।।।।।এরপর হঠাৎ ওই মেয়েটা ছেলেটাকে পা বেকিয়ে ছেলেটার গলা চেপে ধরে, এবং পা দিয়েই ছেলেটাকে পেছনে ঠেলে ফেলে দেয়।।।তখনি ব্যাপার-টা বুঝতে পারে অনুর মা, বাবা।।
যে এ এদের আসল মেয়ে না।।।।।
ওই মেয়েটা এবার উঠে দাঁড়িয়ে ওই ছেলেটার দিকে এগিয়ে আসে।।।।এবং ছেলেটার গলা চিপে ধরে বলে " এই বাড়ির মেয়ে আমার ভাই-কে খুন করেছে, আমি আমার ভাইয়ের বদলা পূরণ না হওয়া অবধি এখান থেকে যাবোনা।। ওকে আমি এই ঘরের আয়নাতে বন্দি করে রেখেছি এবার ওর বাবা -মাকেও বন্দি করে আমার বদলা পূরণ করবো " এই বলে ছেলেটার গলা আরও শক্ত করে ধরে মাটির উপরে তুলে দেয়।।।তখনি ঘন্টি দৌঁড়ে এসে মেয়েটার পায়ে কামড় দেয়।
।আর ছেলেটা তখন নীচে পড়ে যায়।।ছেলেটা নিজেকে মুক্ত করে, মন্ত্র পড়তে থাকে এবং মেয়েটার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে।।।এবং মেয়েটা সহ ছেলেটা এই আয়নার মধ্য ঢুকে যায়।।।।
।আর ছেলেটা তখন নীচে পড়ে যায়।।ছেলেটা নিজেকে মুক্ত করে, মন্ত্র পড়তে থাকে এবং মেয়েটার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে।।।এবং মেয়েটা সহ ছেলেটা এই আয়নার মধ্য ঢুকে যায়।।।।
এর পর ঠিক কি হয়েছে আমরা কেউই জানিনা।।।প্রায় ২ ঘন্টা পর আয়না ভেদ করে তুমি এইঘরের মেঝেতে এসে ছিটকে পড়ো।।।।।।
কিন্তু এরপর ওই ছেলেটা আর মেয়েটার কি হলো আমরা কেউ জানিনা।।।।
অনু বললো - আমার বিড়াল???ঘন্টি ও কোথায়?
অনুর বাবা তখন বললো - বিড়াল-টা ওই মেয়েটাকে কামড়ানোর পর-ই অদ্ভুত আচরণ করতে থাকে।।।এবং সে আয়নার কাছে গিয়ে বেঁহুশ হয়ে পড়ে ছিলো।।।।তারপর ঠিক কি হয়েছে আমরা কেউ জানিনা, হয়তো ওহ এই আয়নাতে চলে গিয়েছে।।।আমরা কেউ খেয়াল করিনি আমরা ওই ছেলেটা আর তোমার রূপ ধরা মেয়েটাকে দেখছিলাম।।।।
তোমাকে দেখে খুন দূর্বল মনে হচ্ছে আগে কিছু খাও।।।।।আমি আজকেই এই আয়না-টা বাড়ি থেকে সরানোর ব্যবস্থা করছি।।।অনু তখন নিজের ঘরের আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখলোও আয়না-টা অর্ধেক ভেঙে গেছে।।।।
এরপর....থেকে বেশ কয়েকদিন " অনু.... আয়নার সামনে যেতে আয়নার দিকে তাকাতে ভয় পায় "আর ওই ছেলেটা কে? কেনই বা সে তাকে বললো " আবার দেখা হবে " আর ঘন্টি-ই বা কোথায় গেলো? এগুলো নাহয় অন্য কোনোদিন বলবো।।।
https://www.facebook.com/VuterAsor.904/posts/2125501270802441?__tn__=K-R
Comments
Post a Comment