Skip to main content

শয়তানী - জুয়া - হেমেন্দ্রকুমার রায়

বিলাতে গ্লেমিস ক্যাসল নামে এক প্রসিদ্ধ সেকেলে দূর্গ প্রাসাদ আছে! স্ট্রার্থমোরের আর্ল'রা এই প্রাসাদে বাস করতেন। তোমরা সকলেই জানো বোধহয়, এদেশের রাজা-মহারাজার মতন 'আর্ল' হচ্ছে একরকম বিলাতী উপাধি। স্ট্রার্থমোরের আর্ল'দের বংশ হচ্ছে খুব প্রাচীন বংশ - সে বংশের অর্থ, সন্মান ও যশ, কিছুরই অভাব নেই। গ্লেমিস ক্যাসলেরও খুব নাম-ডাক, বিলাতী ইতিহাসেও তার কথা পাওয়া যায়।
গ্লেমিস ক্যাসলের গুপ্তগৃহের কথা কোনও বাইরের লোকে জানে না। কিন্তু প্রত্যেক আর্ল'ই সাবালক হলে সেই গুপ্তকথা জানতে বাধ্য। লোকে বলে, সেই গুপ্তকথা এমনই ভয়াবহ যে তা একবার শুনলে এ জীবনে কেউ আর তা ভুলতে পারে না। কি যে সেই ভূতুড়ে গুপ্তকথা, তা জানতে অনেকেই অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে।
গুপ্তকথার রহস্য না-হয় নাই'ই জানা গেল। কিন্তু সাহেবরা বলে, গ্লেমিস ক্যাসল হচ্ছে ভূতপ্রেতদের মস্ত আড্ডা এবং সে সন্মন্ধে এক-আধটা নয়, শত শত গল্প আছে। সব গল্প বলবার জায়গা এখানে নেই। তবে একটা গল্প বলতে পারি। তোমরা কান পেতে শোনো।
দ্বিতীয় জেমস তখন ইংলন্ডের রাজা। ১৬৮৫ থেকে ১৬৮৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি ইংল্যান্ড শাসন করেছিলেন।
গ্লেমিস ক্যাসলে তখন আর্ল অফ ক্রফোর্ডের প্রভুত্ব। লোকে তাঁকে 'দেড়ে রাজা' ও 'বাঘা রাজা' বলে ডাকত! শেষ নামটা শুনেই বুঝতে পারছ বোধহয় যে লোকটির স্বভাব কিরকম ছিল।
বাঘা-রাজার একটা বিশ্রী বদ অভ্যাস ছিল, জুয়াখেলা। তিনি তাসের জুয়াখেলা না খেলে থাকতে পারতেন না। অন্য কোনো খেলুড়ে না জুটলে চাকর বাকরদের ডেকে আনিয়ে জুয়া খেলতেও লজ্জাবোধ করতেন না।
নভেম্বরের এক অন্ধকার রবিবার রাত্রে বাঘা-রাজার মাথায় হঠাৎ খেয়াল চাপল, আজ জুয়া খেলতেই হবে! কিন্তু রবিবার যে বিশ্রামের দিন, ধার্মিক খ্রীষ্টানদের পক্ষে সেদিন যে জুয়াখেলা মহাপাপ, সেটা তিনি একবারও ভেবে দেখলেন না। আর ভাববেন'ই বা কেন, তিনি তো আর ধার্মিক ছিলেন না!
কিন্তু খেলুড়ে কই? বাঘা-রাজা চাকরদের ডাক দিলেন। কিন্তু তাঁর হুকুম শুনে তারা চোখ কপালে তুলে বললে, "ওরে বাপরে, রবিবারে জুয়াখেলা? প্রাণ গেলেও আমরা ও মহাপাপ করতে পারব না!"
রেগে তিনটে হয়ে বাঘা-রাজা বললেন, "মহাপাপ! আচ্ছা! আজ যদি শয়তানও এসে হাজির হয় তবে তার সঙ্গেও আমি জুয়া খেলব!" এই বলে তিনি তাঁর ঘরে ঢুকে গুম হয়ে বসে রইলেন।
শয়তানের কান বড় তীক্ষ্ণ। বাঘা-রাজার কথা সে শুনতে পেলে। অন্ধকার ঘুটঘুটে রাত। সারা দুনিয়া ভয়ে চুপ মেরে আছে। নিজের ঘরে জেগে বসে আছেন খালি বাঘা-রাজা। বাহির থেকে দরজায় কে ধাক্কা মারলে।
বাঘা-রাজা গর্জে উঠলেন "কে?"
সাড়া এলো, "আমি খেলুড়ে। আপনি কি আমার সঙ্গে জুয়া খেলতে চান?"
বাঘা-রাজা বললেন, "তুমি যে হও, সে হও! চলে এসো ভেতরে! তোমার সঙ্গে আমি জুয়া খেলব!"
ঘরের ভেতর অমনি এক অদ্ভুত মূর্তির আবির্ভাব! খুব লম্বা ছিপছিপে চেহারা, তীক্ষ্ণ জ্বলন্ত চোখ, মুখে ছুঁচালো দাড়ি, গায়ে মিশকালো পোশাক। তার মুখের দিকে তাকালে বুক ঢিপ করে ওঠে!
বাঘা-রাজা শুধোলেন, "কে তুমি?"
সেলাম ঠুকে মূর্তি বলল, "খেলুড়ে "।
"....কেয়াবাৎ, কেয়াবাৎ! এসো, তবে খেলা শুরু করি!"
খেলা চলল। পৃথিবীতে জনপ্রাণীর সাড়া নেই, নিঝুম রাত ঝিমঝিম করে কাঁদছে!
খেলা বেশ জমে উঠল।
কিন্তু বাঘা-রাজা প্রতিবারই হেরে যাচ্ছেন। তিনি বুঝলেন, এই আকাশ থেকে খসে পড়া খেলুড়েটি বড় যে-সে খেলোয়াড় নয়। যত হারছেন, তাঁর রোখ তত বেড়ে উঠছে।
খেলুড়ে-চোখদুটো মাঝেমাঝে জ্বলজ্বল করে জ্বলে উঠছে, আর মাঝেমাঝে ঠোঁটের কোণে হাসির বিদ্যুৎ খেলে যাচ্ছে! সাপের হাসি কেউ দেখেনি, কিন্তু সাপ যদি হাসত, তাহলে সে বোধহয় এমনি করেই হাসত!
কিন্তু বাঘা-রাজার ভয়ডর বলে কিছু নেই, এত হেরেও তিনি একটুও দমলেন না। দেখতে দেখতে হেরে হেরে তাঁর হাতের সব টাকা ফুরিয়ে গেল।
বাঘা-রাজা মনে মনে মানলেন, 'হুঁ, লোকটা ওস্তাদ খেলোয়াড় বটে! হারি আর জিতি, এর সঙ্গে খেলেও সুখ!'
খেলুড়ে গম্ভীর গলায় বললে, "কি রাজা, এখনো কি খেলার সখ আছে?"
"....আলবৎ "।
"....কিন্তু টাকা কই?"
একখানা দাসখত লিখে বাঘা-রাজা বললেন, "এবারে এই দাসখতে বাজি ধরলুম!"
".....কি দাসখত? "
"....আমি যদি হারি, চিরকাল তোমার গোলাম হয়ে থাকব!"
"....মৃত্যুর পরেও?"
"....মৃত্যুর পরেও"।
খেলুড়ে হাসতে লাগল হা-হা-হা-হা-হা-হা!
তারপর হঠাৎ হাসি থামিয়ে টেবিলের ওপর ঝুঁকে পড়ে গম্ভীরভাবে বললে, "এসো, তবে খেলা যাক!"
স্তব্ধ কালো রাতের বুকের ভেতরে গিয়ে সেই ভীষণ হা-হা-হা-হা-হা-হা হাস্য একটা অমানুষিক হাহাকারের মতন বেজে উঠল।
কিন্তু বাঘা-রাজার খেয়াল নেই - খেলার নেশায় তিনি তখন পাগল, তাঁকে যেন দানোয় পেয়েছে!
দূর্গের সমস্ত লোক জেগে উঠেছে! ঘুম যেন সেখান থেকে ভয় চম্পট দিয়েছে। ওপরে ও কে হাসছে? ও কি মানুষের হাসি? সকলে কান পেতে শুনতে লাগল।
একজন বললে, "বাঘা-রাজা জুয়া খেলছেন!"
আর একজন সভয়ে বললে, "আজ তো রবিবার! বিশ্রামবারে এ কি অমঙ্গলে ব্যাপার!"
আর একজন বললে, "কিন্তু খেলুড়ে জুটল কিভাবে?"
আর সবাই বললে, "তাই তো, কি আশ্চর্য ব্যাপার! আমরা কেউ গেলুম না, দূর্গের সমস্ত দ্বার রুদ্ধ, বাইরে এক ভূতের মতো কালো রাত খাই-খাই করছে, তবে খেলুড়ে এলো কখন, কেমন করে?"
ওপরের ঘর থেকে আকাশ ফাটানো চিৎকার জেগে উঠল! খেলা বুঝি পুরোদমে চলছে। আবার হা-হা-হা-হা-হা অট্টহাসি আর সঙ্গে সঙ্গে বাঘা-রাজার গর্জন! একজন সাহসী লোক উঠে দাঁড়িয়ে বললে, "যাই, উঁকি মেরে দেখে আসি কি ব্যাপারটা!"
আর সবাই বললে, "যেও না, যেও না, অমন কাজও কোর না! বাঘা-রাজা আজ শয়তানকে ডেকেছিল! "
কিন্তু সে কারোর মানা মানলে না। পা টিপে টিপে ওপরে গিয়ে উঠল - অট্টহাস্যে ও ভীষণ গর্জনে তখনো চারদিক কেঁপে কেঁপে উঠছে। ঘরের দরজার ছোট্ট একফাঁকে চোখ রেখে সে দেখতে লাগল।
ঘরের ভেতর সেই খেলুড়ে হঠাৎ একলাফে উঠে দাঁড়িয়ে উঠে, হাতের তাস ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে চেঁচিয়ে বললে, "চুলোয় যাক ও চোখটা!"
সঙ্গে সঙ্গে একটা তীব্র বিদ্যুৎ শিখা চমকে উঠে দরজার ফাঁকের দিকে ছিটকে পড়ল এবং সঙ্গে সঙ্গে লুকিয়ে যে উঁকি মারছিল ঘরের ভেতরে, সে চোখে হাত চাপা দিয়ে মাটির ওপর লুটোপুটি খেতে লাগল। তার চোখদুটো গিয়েছে অন্ধ হয়ে!
বাঘা-রাজা তাড়াতাড়ি বাইরে ছুটে এসে দেখে বললেন, "যেমন কর্ম তেমন ফল!"
কিন্তু ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনি সেই খেলুড়েকে আর খুঁজে পেলেন না। শেষ বাজি জিতে সে অদৃশ্য হয়েছে - কিন্তু কোথায় গেল সে?
বাঘা-রাজা সভয়ে দেখলেন, যাওয়ার সময় সে নিজের দাসখতখানাও নিয়ে গিয়েছে।
এই ঘটনার পাঁচ বছর পর বাঘা-রাজার মৃত্যু হলো। কিন্তু তারপর থেকে প্রতি রবিবার বাঘা-রাজার ঘরে যে কান্ডটা হতে লাগল, তা আর বলবার নয়! হা-হা-হা-হা-হা অট্টহাসি, ভয়ানক গর্জন, দুপদাপ শব্দ - ঘরের ভেতর যেন পুরোদমে চলছে সাঙ্ঘাতিক জুয়াখেলা! দূর্গে মানুষের তিষ্ঠানো দায়! শেষমেশ পাঁচিল তুলে বাঘা-রাজার ঘরের সব জানলা দরজা বন্ধ করে দেওয়া হলো।
লোকে বলে, বন্ধ ঘরের ভেতর আজও চলে প্রতি রাত্রে বাঘা-রাজা আর তাঁর সেই অমানুষ খেলুড়ের জুয়াখেলা - সৃষ্টির শেষ দিন না এলে সে খেলা আর বন্ধ হবে না।

Comments

Popular posts from this blog

প্রেতের কান্না - শ্রীযোগেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে অনেকক্ষণ। পৃথিবীর বুকে নেমে এসেছে জমজমাট অন্ধকার। দেবকুমার বুঝতে পারল সে পথ হারিয়ে ফেলেছে—বন্ধু রজতের বাড়ি খুঁজে বার করা একেবারেই অসাধ্য। কত চেষ্টাই তো করল সে! কিন্তু রজতের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পথ সে খুঁজে বার করতে পারল না । মনে মনে জেগে ওঠে তার শত অনুতাপ। রজত তাকে বারণ করেছিল। সে বলেছিল বারবারই, “শোনো দেবকুমার, এসব পাহাড়ে জায়গা একেবারেই ভালো নয়, এখানে-সেখানে কত বিপদ ওৎ পেতে বসে আছে! কাজেই বিকেল পাঁচটা না বাজতেই ফিরে এসো !” সে তখন হেসেছিল বিদ্রুপের হাসি! একটা শক্ত-সমর্থ জোয়ান ছেলে সে, পাহাড়ে পথ বলেই কি তার বিপদ হবে? সে কি পাঁচ বছরের কচি ছেলে যে তাকে সহজেই কেউ বিপদে ফেলতে পারে? তখন এমনি কত কথাই তার মনে হয়েছিল, কিন্তু এখন ? এখন যে বাচ্চা ছেলের মতোই সে পথ হারিয়ে ফেলল ? এখন কোথায় সে যাবে? কেই বা তাকে আশ্রয় দেবে? হ্যাঁ, ঐ যে দূরে একটা আলো দেখা যায় না? দেবকুমারের আশা হল, নিশ্চয়ই ঐখানে কোনো বসতি আছে, ওখানে গেলে সে নিশ্চয়ই একটু আশ্রয় পেতে পারে। দেবকুমার জোরে পা চালিয়ে দিল। মিনিট দশেক পরেই দেখা গেল, এক প্রকাণ্ড বাড়ি তার সুমুখে দাঁড়িয়ে। বাড়িটি জীর্ণ পুরা...

একটি বিশ্রী অবয়ব - তানজিনা তানিয়া

অায়নার সামনে দাঁড়াতেই অাবারো অামার সামনে সেই বিশ্রী অবয়ব টা ভেসে উঠলো। অামি ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম। রাসফি দৌড়ে এসে অামার বাহু দু হাতে অাঁকড়ে ধরে বললো -তোমাকে না কতদিন বলেছি, যেহেতু অায়নার সামনে দাঁড়ালে তোমার সমস্যা হয়, তাহলে অায়নার সামনে অার দাঁড়াবে না। অামি কাঁদো কাঁদো গলায় বললাম -কে যেন অামাকে জোর করে এনে অায়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। অামি শত চেষ্টা করেও অাটকাতে পারি না। অায়নাটা অামাকে ভীষণভাবে টানে। রাসফি প্রচুর রেগে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের অায়নাটার গায়ে ফুলদানি দিয়ে সজোড়ে অাঘাত করে ভেঙে ফেললো, সাথে সাথে ড্রেসিং টেবিল থেকে লাল তরল পদার্থ বের হতে থাকলো। অামি ভয়ে চিৎকার দিয়ে রাসফিকে জড়িয়ে ধরলাম। রাসফির চোখ-মুখ শক্ত হয়ে গেছে ভয়ে। ড্রেসিং টেবিলের অায়না ভাঙলে সেখান থেকে রক্ত বের হতে পারে, সেটা রাসফি কেন অামরা কেউ কখনো কল্পনা করি নি! মুহুর্তে রক্তে অামাদের পুরো রুমের মেঝে ভরে গেলো। অামরা অাশ্চর্য হয়ে লক্ষ করলাম, রক্তটা নিজে নিজে এক একটা অক্ষরে পরিণত হচ্ছে। প্রথমে 'ন' 'র' 'জ' হলো তারপর সেগুলোতে ই-কার, অা-কার বসে একটা নাম হয়ে গেলো। পরিপূর্ণ নাম। "নিরাজ"। কিন্তু ...

পূণিমার রাত

সেদিন ছিল পূণিমার রাত । রাত প্রায় তিনটা বাজে । আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ছিলাম । বাসার সবাই ঘুম । হঠাৎ ছাদ থেকে ধুপ ধুপ শব্দ ভেসে এলো । বিকেল বেলায় আমরা ছাদে খেললে যেমনটি শব্দ হয় ঠিক তেমনটি । আমি বেশ অবাক হলাম , এতো রাতে ছাদে আবার কে খেলছে ! কাকু আর আমি একই রুমে থাকি । বেশ কয়েকবার শব্দ হওয়ায় কাকুকে ডাক দিলাম । কাকুর উঠার নামটি নেই । নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে । অনেকক্ষন ডাকা ডাকি করার পরে কোন রকম মাথা তুলে বললেন তুই গিয়ে দেখনা কে ? ইদুর টিদুর হবে হয়তো । বলে কাকু আবার নাক ডাকতে শুরু করলেন । এদিকে ছাদের শব্দ দৌড়া দৌড়ি পর্যায় পৌছে গেছে । আমি আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করলাম আমার তেমন ভয় করছেনা । বরং দেখতে ইচ্ছে করছে এতো রাতে ছাদে কে দৌড়া দৌড়ি করছে । আমাদের রান্না ঘরের দেয়ালে মা ছাদের চাবি ঝুলিয়ে রাখেন । আমি ঘর থেকে বেড় হয়ে ছাদের চাবি নিলাম । আমাদের ফ্লাট থেকে বেড় হতেই ডান দিক দিয়ে উঠে গেছে ছাদের সিঁড়ি । প্রতিটি বারান্দায় বাতি জ্বলছে । তিন তলার বারান্দা গুরে ছাদের সিঁড়ি । আমি ছাদের সিঁড়িতে উঠার পরও আমার কোন ভয় লাগছিল না । তিন তলা থেকে ছাদের দরজা দেখা যায় । বন্ধ দরজা । তালা দেখা যাচ্ছে । তবে ছাদে শব্দ করছে কে ?...