Skip to main content

বুড়োর বিয়ে - সাইমুম অয়ন

৫৫ বছরের বয়সে হটাৎ করে রজব আলীর যখন বিয়ে করার ইচ্ছা জাগলো তখন পরিবারে যেন বিনা মেঘে বজ্রপাতের সৃষ্টি হলো । রজব আলীর তিন ছেলে দুই মেয়ে । তিন বছর আগে বৌ মরেছে , ছেলেমেয়ে সবাইকে বিয়ে দিয়ে কয়েকবছর আগে সেটেল করা হয়েছে । বড় নাতনীরই বিয়ের জন্য লোক আসতেছে । সেখানে রজব আলীর বিয়ের খায়েশ খুব শুভচিন্তা নয় ।
রজব আলীর পাঁচ ছেলেমেয়ে এই ঘোষনা শোনামাত্র বাড়ীতে চলে আসলো । প্রথমে নরম হয়ে বোঝাবার চেষ্টা করলো । পরে হুমকি দিয়ে ঘরে বন্দী করা হলো । দরজার বাইরে পাহাড়াদার নিযুক্তও করা হলো যাতে বুড়ো বাপ ভেগে যেতে না পারে । কিন্তু সবার আশংকা সত্য প্রমানিত করে রজব আলী রাতের বেলা কাজের বুয়াকে ১০০ টাকা ঘুষ দিয়ে পলায়ন করলো । যাবার আগে চিরকুটে লিখে গেলো
"ওরে পামড়ের দলেরা , অকৃতজ্ঞ , বেঈমানরা । আমি পলাইয়া গেলাম । বিয়ে করে বাড়ী ফিরবো । তারপর তোদের ঠ্যাং ভেঙ্গে গাছে লটকাইয়া দিবো । আমার বিয়ে আমি করবো । তোদের বাপের কি ?
--- ইতি , তোদের বাপ রজব আলী"
বড় মেয়ে চিরকুট পড়ে অজ্ঞান হলো । সাথে সাথে এলাকায় মাইকিং করা হলো...."আধা পাগলা রজব আলী নিখোঁজ । সঠিক সন্ধানদাতাকে ১০ হাজার টাকা পুরষ্কার প্রদান করা হইবে ।" রজব আলী তখন এলাকার বাঁশ বাগানে মাইকিং শুনে মুচকি হাসতেছিল । বিকেলবেলা রজব আলীর সন্তানদের অজ্ঞান হবার পালা । কারন রজব আলী পাল্টা মাইকিং করার ব্যবস্থা করেছে...."রজব আলীর পাঁচ ছেলেমেয়ে পাগল হইয়া গেছে । তাদের বাঁশডলা দিতে হবে । কেহ যদি তাহাদের বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে ঠ্যাং ভেঙ্গে দিতে পারে তবে রজব আলী তার বিয়েতে সেই মহামানবকে দাওয়াত দেবে ।"
কিছুদিনের জন্য রজব আলী আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেলো , মানে তার বোনের বাড়ীতে আশ্রয় নিলো । ঘটক দিয়ে পাত্রী দেখা চলতেছিল । ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটা মেয়েও রজব আলী পছন্দ করে ফেললো । কিন্তু কয়েকটা বিয়ে করা তো পসিবল না । তাই রজব আলী লটারির ব্যবস্থা করলো । লটারীতে অবশেষে ১৬ বছর বয়স্ক ফুলবানু নামের এক ইছড়েপাকা কিশোরির নাম উঠলো ।
ফুলবানুর বাড়ীতে গিয়ে পাত্রী দেখা হলো । আধুনিক যুগ তো , তাই ফুলবানু জানালো সে রজব আলীর সাথে একা কথা বলতে চায় । ঘামতে ঘামতে রজব আলী সম্মতি দিলো । ফুলবানু একলা ঘরে রজব আলীকে জানালো সে বিয়ে করতে রাজি । কিন্তু তাকে অনেক শাড়ী গহনা দিতে হবে । সে নিজে পছন্দ করে কিনবে সবকিছু । কিপটা মা বাবার হাতে টাকা দিলে ওরা সস্তায় জিনিস কিনে বাকি টাকা মেরে দেবে । রজব আলী আনন্দের সাথে জানালো সে বিয়ের বাজারের টাকা চুপিচুপি ফুলবানুর হাতেই তুলে দেবে । বিয়ের সাতদিন আগে বিকাশ করে পঞ্চাশ হাজার টাকা রজব ফুলবানুর নাম্বারে পাঠিয়ে দিলো ।
"প্রিয় হারামিরা কুলাঙ্গার পুত্র ও কন্যারা , 
আজ আমি বিয়া করতাছি । তোদের দাওয়াত দিতে পারলাম না বলে দুঃখিত । খুব জলদী বৌ নিয়া বাড়ী ফিরবো
---- ইতি , তোদের বাপ রজব অালী"
বিয়ের দিন এই চিরকুটখানা ছেলেমেয়েকে পাঠিয়ে বেশ শান্তি বোধ করতেছিল রজব । শেরোয়ানি পরে বাদ্য বাজিয়ে বিয়ে বাড়ীতে গিয়ে রজব দেখলো তার হবু শশুড় শাশুড়ি বিলাপ করতেছে । রজবের হবু বৌ ফুলমতি পাশের বাড়ির লজিং মাস্টারের সাথে আজ সকালে ভেগে গেছে । সব শোনার পর রজবের ইচ্ছা হলো নিজের পায়ের নাগরা জুতা খুলে নিজেকে পেটায় । ঘটক সাহেব একটা চিরকুট রজবের দিকে বাড়িয়ে দিলো । ফুলমতি রজবকে লিখেছে ।
"ঐ বুইড়া নানা । আমি গেলাম । আপনার দেয়া পঞ্চার হাজার টাকার জন্য অনেক মোবারকবাদ । আপনার টাকায় আজকেই আমি আর আমার ময়না মাস্টারকে বিবাহ করবো । ভালো থাকবেন । সালাম নানাজান
---- ইতি , ফুলবানু"
চিরকুট হাতে নিয়ে রজব হু হু করে কেঁদে দিলো । কান্নাটা কি বৌ ভেগেছ সেজন্য , নাকি পঞ্চাশ হাজার টাকা ফুলবানু মেরে দিয়েছে সেজন্য । সেটা কেউ জানলোনা ।

Comments

Popular posts from this blog

প্রেতের কান্না - শ্রীযোগেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে অনেকক্ষণ। পৃথিবীর বুকে নেমে এসেছে জমজমাট অন্ধকার। দেবকুমার বুঝতে পারল সে পথ হারিয়ে ফেলেছে—বন্ধু রজতের বাড়ি খুঁজে বার করা একেবারেই অসাধ্য। কত চেষ্টাই তো করল সে! কিন্তু রজতের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পথ সে খুঁজে বার করতে পারল না । মনে মনে জেগে ওঠে তার শত অনুতাপ। রজত তাকে বারণ করেছিল। সে বলেছিল বারবারই, “শোনো দেবকুমার, এসব পাহাড়ে জায়গা একেবারেই ভালো নয়, এখানে-সেখানে কত বিপদ ওৎ পেতে বসে আছে! কাজেই বিকেল পাঁচটা না বাজতেই ফিরে এসো !” সে তখন হেসেছিল বিদ্রুপের হাসি! একটা শক্ত-সমর্থ জোয়ান ছেলে সে, পাহাড়ে পথ বলেই কি তার বিপদ হবে? সে কি পাঁচ বছরের কচি ছেলে যে তাকে সহজেই কেউ বিপদে ফেলতে পারে? তখন এমনি কত কথাই তার মনে হয়েছিল, কিন্তু এখন ? এখন যে বাচ্চা ছেলের মতোই সে পথ হারিয়ে ফেলল ? এখন কোথায় সে যাবে? কেই বা তাকে আশ্রয় দেবে? হ্যাঁ, ঐ যে দূরে একটা আলো দেখা যায় না? দেবকুমারের আশা হল, নিশ্চয়ই ঐখানে কোনো বসতি আছে, ওখানে গেলে সে নিশ্চয়ই একটু আশ্রয় পেতে পারে। দেবকুমার জোরে পা চালিয়ে দিল। মিনিট দশেক পরেই দেখা গেল, এক প্রকাণ্ড বাড়ি তার সুমুখে দাঁড়িয়ে। বাড়িটি জীর্ণ পুরা...

একটি বিশ্রী অবয়ব - তানজিনা তানিয়া

অায়নার সামনে দাঁড়াতেই অাবারো অামার সামনে সেই বিশ্রী অবয়ব টা ভেসে উঠলো। অামি ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম। রাসফি দৌড়ে এসে অামার বাহু দু হাতে অাঁকড়ে ধরে বললো -তোমাকে না কতদিন বলেছি, যেহেতু অায়নার সামনে দাঁড়ালে তোমার সমস্যা হয়, তাহলে অায়নার সামনে অার দাঁড়াবে না। অামি কাঁদো কাঁদো গলায় বললাম -কে যেন অামাকে জোর করে এনে অায়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। অামি শত চেষ্টা করেও অাটকাতে পারি না। অায়নাটা অামাকে ভীষণভাবে টানে। রাসফি প্রচুর রেগে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের অায়নাটার গায়ে ফুলদানি দিয়ে সজোড়ে অাঘাত করে ভেঙে ফেললো, সাথে সাথে ড্রেসিং টেবিল থেকে লাল তরল পদার্থ বের হতে থাকলো। অামি ভয়ে চিৎকার দিয়ে রাসফিকে জড়িয়ে ধরলাম। রাসফির চোখ-মুখ শক্ত হয়ে গেছে ভয়ে। ড্রেসিং টেবিলের অায়না ভাঙলে সেখান থেকে রক্ত বের হতে পারে, সেটা রাসফি কেন অামরা কেউ কখনো কল্পনা করি নি! মুহুর্তে রক্তে অামাদের পুরো রুমের মেঝে ভরে গেলো। অামরা অাশ্চর্য হয়ে লক্ষ করলাম, রক্তটা নিজে নিজে এক একটা অক্ষরে পরিণত হচ্ছে। প্রথমে 'ন' 'র' 'জ' হলো তারপর সেগুলোতে ই-কার, অা-কার বসে একটা নাম হয়ে গেলো। পরিপূর্ণ নাম। "নিরাজ"। কিন্তু ...

পূণিমার রাত

সেদিন ছিল পূণিমার রাত । রাত প্রায় তিনটা বাজে । আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ছিলাম । বাসার সবাই ঘুম । হঠাৎ ছাদ থেকে ধুপ ধুপ শব্দ ভেসে এলো । বিকেল বেলায় আমরা ছাদে খেললে যেমনটি শব্দ হয় ঠিক তেমনটি । আমি বেশ অবাক হলাম , এতো রাতে ছাদে আবার কে খেলছে ! কাকু আর আমি একই রুমে থাকি । বেশ কয়েকবার শব্দ হওয়ায় কাকুকে ডাক দিলাম । কাকুর উঠার নামটি নেই । নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে । অনেকক্ষন ডাকা ডাকি করার পরে কোন রকম মাথা তুলে বললেন তুই গিয়ে দেখনা কে ? ইদুর টিদুর হবে হয়তো । বলে কাকু আবার নাক ডাকতে শুরু করলেন । এদিকে ছাদের শব্দ দৌড়া দৌড়ি পর্যায় পৌছে গেছে । আমি আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করলাম আমার তেমন ভয় করছেনা । বরং দেখতে ইচ্ছে করছে এতো রাতে ছাদে কে দৌড়া দৌড়ি করছে । আমাদের রান্না ঘরের দেয়ালে মা ছাদের চাবি ঝুলিয়ে রাখেন । আমি ঘর থেকে বেড় হয়ে ছাদের চাবি নিলাম । আমাদের ফ্লাট থেকে বেড় হতেই ডান দিক দিয়ে উঠে গেছে ছাদের সিঁড়ি । প্রতিটি বারান্দায় বাতি জ্বলছে । তিন তলার বারান্দা গুরে ছাদের সিঁড়ি । আমি ছাদের সিঁড়িতে উঠার পরও আমার কোন ভয় লাগছিল না । তিন তলা থেকে ছাদের দরজা দেখা যায় । বন্ধ দরজা । তালা দেখা যাচ্ছে । তবে ছাদে শব্দ করছে কে ?...