Skip to main content

ভয় - প্রিন্স আশরাফ

আগেরদিনে গ্রামে যাদের টাকা পয়সা ছিলো বা হতো তারা হজ্জে যেতো।এখন অবস্থা বদলেছে।এখন গ্রামের টাকাওয়ালা লোক হজ্জে না যেয়ে সেই টাকায় ছেলেমেয়েদেরকে শহরের বেসরকারি ভার্সিটি বা মেডিকেলে ভর্তি করায়।
আমার বাবা অবশ্য দুটোই করেছেন।তার টাকা পয়সার অভাব নেই।ইউনিয়ন পরিশোধের চেয়ারম্যান তিনি।তাছাড়া ৩০০ বিঘার লীজ-ঘের আছে আমাদের।কাজেই ১০-১২ লাখ টাকা দিয়ে ছেলেকে বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি করানো এবং মাকে নিয়ে হজ্জে যাওয়া বাবার কাছে কোন ব্যাপার ই না।
বাবা হজ্জ থেকে আসার পর গ্রামের ছোট ছোট অনেক পরিবর্তন হয়েছে।ভাড়ায় ভিসিআর দেখানোর দোকানগুলো উঠে গেছে।বন্ধ হয়েছে দোকানের পিছনের ফেন্সিডিল ও গাজার পুরিয়া বেচা।আমার অবশ্য সমস্যা নেই।চেয়ারম্যানের ছেলে হওয়ার আমার সাপ্লাই সময়মত চলে আসে।
আর কয়দিন পরেই মেডিকেলে পড়তে যাবো বিধায় যা খাওয়ার এখন খেয়ে নিচ্ছি।ডাইল খাওয়ার জন্য সন্ধার পর ঘেরের সবচেয়ে দূরের কুড়েঁ ঘরে এসেছি।সঙ্গে আছে বন্ধুস্থানীয় বাবুল আর ঘেরের দুই পাহারাদার।ডাইল খেলে মাতাল হয় না কেউ,ঝিম মেরে বসে থাকতে হয়।আমরাও ঝিম মেরে বসে আছি।হঠাৎ একটা জিনিস মনে পরলো।আমি মাথা তুলে কারো দিকে না তাকিয়ে বললাম,"আমার একটা লাশ দরকার"
বাবুল চমকে উঠলো।আর ঘেরের পাহারাদার হামিদ বললো "ছোটোভাই,কন কার লাশ ফেলে দিতে হবে।আপনি খালি কন"
আমি মাথা ঝাকিয়ে বললাম "নির্দিষ্ট কারো না।যে কোনো মরা লাশ হলেই হবে।ডাক্তারি পরতে লাশ লাগে।লাশের হাড়গোড় লাগে।ঢাকা শহরে দশ বারো হাজার টাকা লাগে হাড় পেতে।তা্ই ভাবলাম যদি গ্রাম থেকে নিয়ে যাওয়া যায়। "
হামিদ ভাই আগের মত খসখসে গলায় বললো "কি কন ছোটভাই?হাড়ের দাম দশ হাজার টাকা?তাইলে তো প্রত্যেকদিন একটা করে লাশ নিয়ে ঢাকায় বেচে দিলে হয়।শুধু টাকা আর টাকা।"
"যেরকম ভাবছ তেমন সোজা না,ঝামেলা আছে"
ইয়াসিনের মাথা মোটামুটি ঠান্ডা,সে ভেবে বললো "ছোটভাই কবর দেয়া লাশ হলে চলবে?"
"কদিন আগে কবর দেয়া?শুনেছি বেশি আগে কবর দেয়া হলে সেই হাড়ে মাটি লেগে যায়।ঐ হাড় হবে না।"
ইয়াসিন হাত গুনে বললো "দুইদিন আগের"
"চলবে যদি হাড় ফ্রেশ থাকে"
"ফ্রেশ থাকতে পারে।যুবতি বউ তো,তারপর আবার বিষ খাওয়া লাশ।"
হামিদ ওপাশ থেকে বলে "কার কথা কও ইয়াসিন ভাই?"
"কেন বাগদি পাড়ার সন্নাসির বউ।এনড্রিন খেয়ে মরলো না।
আমি অবাক গলায় বললাম "বাগদিরা লাশ পোড়ায় না নাকি?"
ইয়াসিন বললো "মনে হয় না।পোড়াতে অনেক খরচ।ওদের এত টাকা কই?তারপর বিষ খাওয়া।পা ভেঙে সোজা মাটিতে পুতে ফেলে।"
"বাগদি ব্উ এর লাশ ই যদি হয় তাহলে আজ তুলে ফেলা ভালো।৩দিন হয়ে গেলে আমার আর কাজে লাগবে না"
"তাহলে আজই লাশ তুলে ফেলি"
হামিদ বললো "সবাই ঘুমিয়ে পরলে রাত একটু বাড়লে বের হই।আজ রাতটা বেশ ভালো।"
ঘেরের মধ্যেই সব জোগাড় হয়ে গেলো।কোদাল,শাবল আর লাশ বয়ে আনার জন্য বস্তা।
ইয়াসিন ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম "চুন আছে নাকি?"
"কতটুকু?"
"এই বস্তা খানেক"
"তা হবে।কিন্তু কি করবেন?"
"চুনগোলা পানিতে লাশ ফেলে ফুটালে হাড়ের গা থেকে সহজে মাংস ছাড়িয়ে যায় শুনেছি।"
বাবুল বলে উঠল "গন্ধ হবে না?"
"তা হয়তো হবে।কিন্তু ঘেরের এই ফাকা জায়গায় গন্ধ হলেই বা পাবে কে আমরা ছাড়া।আশে পাশে তো কোনো ঘর বাড়ি নাই"
রাতের খাবার খেয়ে সব গুছিয়ে উঠতে এগারোটা বাজলো।আমরা ৩ জন রওনা দিলাম।ঘের পাহারা দিতে হামিদ থেকে গেল।অবশ্য সে বস্তার চুন বড় পাত্রে ঢেলে পানি দিয়ে ফুটাতে থাকবে যাতে আমরা এসেই ওতে লাশ ছেড়ে দিতে পারি।
ঠান্ডা বাতাস ছেড়েছে।তার মধ্যে টর্চের আলো ফেলে বাগদি পাড়ায় পৌছাতে বারোটা ছাড়িয়ে গেল।বাবুলের চোখ শকুনের চোখ।সে এই অন্ধকারেই ঠিকই বাগদি বউ এর কবর খুজে বের করলো।আমি টর্চ জালিয়ে ধরলাম,ইয়াসিন ভাই কোদাল দিয়ে মাটি খুড়তে লাগল আর বাবুল হাত দিয়ে মাটি সরিয়ে রাখতে শুরু করলো।
বাবুলের চোখ সত্যিই শকুনের চোখ।এই অন্ধকারেও সে বলে দিলো "ইয়াসিন ভাই তাড়াতাড়ি হাত লাগান।ওয়াপদার রাস্তা দিয়ে কেউ এই দিকে আসছে মনে হয়।"
শুনে ভয়ে আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেল,যদি ধরা পরে যা্ই।
কবরের মধ্যে ওটাকে কফিন না বলে বাক্স বলা ভাল।তার মধ্যে কেবল পচন ধরেছে বাগদি বউ এর লাশে।ওরা দুজনে ধরাধরি করে লাশ বস্তায় ভরে মুখ বন্ধ করে ফেলে।
বস্তা নিয়ে রাস্তায় উঠতেই বাবুলের দেখা আগন্তুকের সাথে দেখা হলো।
ইয়াসিন ভাই চড়া গলা্য় বললো "কে যায় এত রাতে?"
কাচুমাচু কন্ঠে জবাব পাওয়া গেলো "আমি বাগদি পাড়ার সন্নাসি"
"এত রাত বিরাতে ঐদিকে কই যাস?"
"কবরখানার দিকে।মনে হলো কারা যেন আছে কবরখানায়।আমার বউডার তো আবার ২দিন হলো কবর দে্য়া।"
"যা দেখে আয়।একা একা ভয় পাসনে"
সন্নাসি সাহস করে বলে উঠে "আপনারা কনে যান?"
"আমরা তো ঘেরের জন্য চুন আনতে গেছিলাম।এই বস্তা করে চুন নিয়ে যাচ্ছি।তুই যা।আমাদেরও দেরি হয়ে যাচ্ছে "
যাক একটা ফাঁড়া তো কাটলো।তারপর চুনের পানিতে লাশ জাল দিয়ে ফ্রেশ হাড় নিয়ে বাড়ি ফিরেই ঘুম।
ফাঁড়া যে কাটে নাই তা বুঝলাম পরদিন পুলিশের ডাকে ঘুম ভাঙাতে।পুলিশ কেন এসেছে তার কারণ বুঝতে আর বাকি রইলো না।তাড়াতাড়ি হাত মুখ ধুয়ে বাইরে বেরিয়ে দেখি ইয়াসিন ভাই,হামিদ ভাই,বাবুল এর সাথে সন্নাসি বাগদি ও আছে।
পুলিশ আর বাবা কে বুঝাতে বেশি সময় লাগলো না,আর বাগদির মুখ বাবা আগেই টাকা দিয়ে বন্ধ করে রেখেছে।সে দেখলাম মহা খুশি।বললো "আমার বউ এর হাড় দিয়ে ছোটকর্তা ডাক্তারি পড়বে,এ তো অনেক সৌভাগ্যের কথা"
তারপর বাসে পুলিশ কে কিছু টাকা খাইয়ে বুঝিয়ে,সবার চোখ বাচিয়ে কিভাবে ঢাকায় বাসায় ফিরলাম সে কথা আর না বলি।টাকা পয়সার সমস্যা না থাকায় কয়জন বন্ধু মিলে উত্তরায় ফ্লাট ভাড়া নিলাম।মেডিকেলে পড়ার অনেক চাপ।সারাদিন পড়া নিয়েই পরে থাকি।একদিন বন্ধুর বাসা থেকে ফেরার পথে মনে হলো বাসে হামিদ ভাই কে দেখলাম।কিন্তু হামিদ ভাই গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় কেন আসবে?আরো মনে হলো সে যেন আমাকে দেখেই তড়িঘড়ি বাস থেকে নেমে গেল।ভাবলাম তা হলে হ্য়তো হামিদ ভাই নয়।তবুও মনের খচখচানি না যাওয়ায় বাড়িতে খবর নিয়ে জানলাম,হামিদ ভাই ঘেরের চাকরি ছেড়ে দিয়ে ঢাকায় কি জানি ব্যবসা করে যার জন্য তাকে ঢাকায় আসতে হয়।
হামিদ ভাই এর চিন্তা মাথা থেকে প্রায় ঝেড়ে ফেলেছি এমন সময় তাকে আবার দেখলাম,তাও আমাদের মেডিকেল কলেজে।পালানোর আগে প্রায় হাতে নাতে ধরলাম।এক কর্মচারীর সাথে হাড়ের লেনদেন চলছিল।হামিদ ভাই কে ক্যান্টেনে ডেকে নিয়ে বসি্যে কড়া গলা্য বললাম"তাহলে এখন ঘেরের কাজ ছেড়ে দিয়ে হাড় বিক্রির ব্যবসা ধরেছো?"
হামিদ ভাই কাচুমাচু মুখে বললো "না,মানে ছোটভাই একটা সুযোগ এসে গেলো,গরীব মানুসের লাশ..."
কড়া গলায় বললাম "ওসব ধান্দাবাজি ছেড়ে বলো কবে থেকে এই ব্যবসা করছো?গ্রামের কতোগুলা কবর খুড়ে লাশ বের করে বিক্রি করছো?"
"এই নিয়ে মোট দুইবার এই কাজ করছি ছোটভাই।"
"এই রকম আরো কত দুইবার আছে তা আল্লাই জানে।লাশ কি কবর খুড়ে তুলছো?"
"হু"
"কেউ জানতে পারে নাই"
"না।তবে পুলিশ সন্দেহ করছে।আপনার দোহাই লাগে ছোটোভাই আপনে কাওরে জানা্য়েন না"
"ঠিক আছে আমি কাওকে জানাবো না।তবে এই ব্যবসা ছেড়ে দাও।লাশের আত্মার অভিশাপ লাগে"।
হামিদ ভাই কি বুঝলো কে জানে।শুধু মুখ গম্ভীর করে উঠে গেল,আমার অনেক অনুরোধ সত্তেও আমার বাসায় গেলো না।
বাসায় ফিরে দেখি আরেক কান্ড।রুমমেট হাসান বাড়ি থেকে ফিরেছে সাথে রয়েছে ছোট তবে বেশ ভাল একটা ভিডিও ক্যামেরা।যা সামনে পায় তাই ভিডিও করে।মেডিকেলের একঘেয়ে পড়া থেকে মুক্তি পেতে হাসানের সাথে ফিল্মের একটা সর্ট কোর্সে ভর্তি হয়ে গেলাম।
অতবড় বাসায় অন্যদের সাথে বনিবনা হচ্ছিলো না দেখে হাসান আর আমি বাসা চেন্জ করেছি।বাসাটা নতুন,এখোনো কমপ্লিট হয়নি।নিচতালার দরজা জানলা কমপ্লিট হলেও আমরা দোতালায় উঠলাম।দোতালার জানলায় গ্রিল না থাকলেও কপাট আছে,তাই আমাদের কোনো সমস্যা হলো না।
ঈদের ছুটিতে বাড়িতে যেয়ে শুনি হামিদ ভাই বর্তমানে ফেরারি আসামি।কবর থেকে লাশ চুরির সাথে যে সে জড়িত তা পুলিশ জেনে গেছে।কিছুদিন আগে যতিন খুড়োর আকস্মিক উধাও হওয়ায় পুলিশ ধারণা করছে হামিদ ভাই খুড়োকে মেরে হাড়গোড় ঢাকায় পাচার করেছে।খুড়োকে এখোনো পাওয়া যায়নি।
মনটা খারাপ হয়ে যায়।আমি পথ না দেখালে হয়তো হামিদ ভাই এর এই অধঃপতন হতো না।ঢাকায় ফিরে মনে মনে হামিদ ভাই কে খুজতে থাকি।কলেজের কর্মচারী মামার কাছেও খোজ নিলাম।নেগেটিভ উত্তর পেয়ে হামিদ ভাই এর আশা প্রা্য ছেড়ে দিলাম,এমন সময় একদিন বাসায় ফিরতেই হাসান বললো কে যেন আমার খোজে এসেছে।রুমে যেতেই দেখি হামিদ ভাই।
হামিদ ভাই কে কেমন চুপচাপ মনে হলো।জিজ্ঞেস করলাম "কোথায় পালিয়ে ছিলে এতদিন?"
"ঢাকাতেই ছিলাম এক বস্তিতে।"হামিদ ভাই কাচুমাচু মুখে উত্তর দিলো।
"তোমাকে আগেই নিষেধ করেছিলাম।শুনলে না।এখন আবার মানুষ খুন করে হাড় বেচা শুরু করেছো।"
"বিশ্বাস করো ছোটভাই যতিন খুড়োকে আমি মারি নাই।যতিন খুড়ো যখন হারিয়ে গেছে আমি তখন গ্রামে ছিলাম না।গ্রামের কেউ হারিয়ে গেলে আমার উপর দোষ পরবে নাকি?"
"যে কাজ করেছো তাতে তো পরবেই।এখন ঢাকায় কি কাজ করো?"
হামিদ ভাই মাথা নিচু করে জবাব দিলো "বস্তিতে আগে ডাইল এর ব্যবসা করতাম।বস্তি উঠে যাওয়ায় এখন বেকার।তাই তোমার কাছে এলাম।যদি কোনো কাজের খোজ দিতে পারো"
"আমি কাজের কি খোজ দেবো।নিজে থাকি পরাশুনায় ব্যস্ত।যাই হোক,থাকার যেহেতু জায়গা নাই,আমার এখানে থেকে কাজের খোজ করো।"
হামিদ ভাই কিছু বললো না।আমার এখানেই থেকে গেলো।সারাদিন খা্য় আর ঘুমায়।কাজ আর খোজে না।এর মাঝে আমাদের একদিন সুযোগ এসে গেলো।কলেজে নতুন বিভাগ খোলায় কিছু কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হবে।হাসান আর আমি মিলে চেষ্টা করলাম যদি হামিদ ভাই কে কোথাও ঢুকিয়ে দেয়া যায়।কিন্তু তার যে শিক্ষাগত যোগ্যতা তাতে রাতে মর্গে লাশ পাহারা দেয়া ছাড়া আর কোনো ক্যাটাগরিতে তাকে ঢোকানো গেলো না।অবশ্য এই চাকরী পেয়ে হামিদ ভাই মহা খুশি।
কবর খুড়ে লাশ তোলায় অভ্যস্ত বলে রাতে একা মর্গ পাহারা দেয়া তার কাছে কোনো ব্যাপার না।শুরু হলো হামিদ ভাই এর লাশ পাহারা দেয়া।আমরা হামিদ ভাই কে অন্য কোথাও যেতে দিলাম না।আমাদের বাসায় রেখে দিলাম।রাতে লাশ পাহারা দেয় আর দিনে ঘুমায়।
মর্গে অর্থাৎ লাশ কাটা ঘরে হামিদ ভাই এর তেমন কাজ নাই।শুধু লাশের ড্রয়ার গুলার সাথে নাম্বার মিলিয়ে রাখা।মড়ার ঘরে আলো বেশ কম।তাতে তার সুবিধাই হয়।কোন খালি ট্রলিতে উঠে একটু ঘুম দিয়ে নেয়।ট্রলিগুলার নিচে চাকা লাগানো থাকে।বড় নড়াচড়া করে।তাই সে চার চাকার পাশে ইট দিয়ে রেখে ঘুমায়।মাঝে মাঝে এক ঘুমেই রাত পার করে দেয়।আর মাঝে মাঝে আজে বাজে চিন্তা মাথায় আসে।বেশি সমস্যা হ্য় ঘুমিয়ে গেলে।মরনঘুম এসে যেন ভর করে।ঘুমিয়ে গেলে নিজেকে তার মৃতদেহ মনে হয়।সামান্যতম নড়াচড়া নেই।যেমন মৃতদেহের থাকে না।
একদিন ক্লাশ শেষে হাসান বললো "ক্যামেরাটা তো বেকার পরে আছে।কিছু শ্যুটিং টুটিং করছি না "
"কি শ্যুটিং করবি আগে সাবজেক্ট বের কর।"
"আমাদের লাশ কাটার দৃশ্য শ্যুটিং করলে কেমন হয়?কিন্তু স্যার রা তো করতে দেবে না,তাই ভাবছিলাম যদি একটা লাশ জোগাড় করতে পারি। "
"লাশ এত সোজা জিনিস নাকি।বেওয়ারিশ গুলাও আন্জুমানে যায়"
হাসান উজ্জল চোখে বললো "আচ্ছা হামিদ ভাই কি একটা ব্যবস্থা করতে পারে না।লাশ নিয়েই তো তার কারবার"
"ওর চাকরী নিয়ে টানাটানি পরে যাবে।"
"আরে না।তুই যা ভাবছিস তা না,হামিদ ভাই অনেক তরিৎকর্মা লোক।তুই বললে ঠিক ম্যানেক করে দিবে।"
আমি কৌতুহলের সুরে বললাম "কিন্তু লাশ এনে ডিসেকশান করবি কোথায়?"
"সেটা কোনো সমস্যা না।আমাদের রুমেই করবো।আর করবি তুই"
"আমি করবো মানে?আমি এসবের মধ্য নাই।আর আমার মেধা তো তুই "জানিস জীবনে কোনোদিন প্রাকটিক্যালে ঠিকমতো হাত লাগাই নাই"
"আরে গাধা আমরা কি মেডিকেলের সিডি বানাচ্ছি নাকি।তুই কখনো কোরবানির ঈদে গরু ছাগল ছেলা দেখেছিস?তুই লাশটার চামড়া ঠিক সেইভাবে ধীরে ধীরে পা থেকে মাথা পর্যন্ত ছিলবি।আমি ঐ দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করবো।চামড়া ছেলা হলে শুরু করবি মাংস ছাড়ানো।ঠিক কোরবানির গরুর মাংসের মত পিস পিস করবি পুরা বডি।চোখ,নাক,কান,মাথা,হাত-পা সব আলাদা আলাদা করবি"
"মাথা খারাপ হয়েছে তোর।লাশ কাটার দৃশ্য ধারণ!আমি পারবো না"
হাসান শীতল গলায় বললো "ঠিক আছে,তোকে লাশ কাটতে হবে না।তুই শুধু লাশের ব্যবস্থা করতে পারিস কি না দেখ"
"দেখি"
হামিদ ভাই কে লাশের কথা বলতেই একটু ভেবে বললো "কবে লাগবে ছোটোভাই?"
হাসান বলে উঠলো "আমাদের তাড়া নাই।আপনি যখন সুবিধে করতে পারেন"
"ঠিক আছে।কোন সমস্যা নাই।শুধু লাশ যারা বাসায় পৌছায় দিবে তাদের কিছু টাকা দিলেই হবে"
হাসান বললো "টাকা নিয়ে আপনি ভাববেন না।শুধু দেখেন লাশটা যেন ফ্রেশ হয়।মেয়ে হলে সবচেয়ে ভালো"
"মেয়েদের লাশ পাওয়া কঠিন।মেয়েরা সহজে মরে না"
আমি বললাম "পুরুষ লাশ হলেই হবে।মেয়েদের স্কীনের নিচে প্রচুর ফ্যাট থাকে।কাটতে তো হবে আমাকেই।চর্বিতে মাখামাখি হয়ে যাবে"
হাসান কৃতজ্ঞ চোখে আমার দিকে তাকালো।হামিদ ভাই বললো লাশ পাঠানোর আগে জানাবে।
তিনদিন পর হামিদ ভাই জানালো "আজ রাতে একটা লাশ আসবে মর্গে।আপনাদের পছন্দমত।কিন্তু লাশ আনতে আপনাদের কিছু কাজ করতে হবে।"
"কী কাজ?"
"মর্গে যে আজ থাকবে সে হলো সালাম ভাই।তাকে বলা আছে।চাদর দিয়ে লাশ ঢাকা থাকবে।নাম্বার না থাকায় লাশ ড্রয়ারে ঢুকানো হবে না।কাঠের একটা সস্তা কফিনে লাশটা আপনাদের নিয়ে আসতে হবে"
"আমাদের?আপনি থাকবেন না?"
"থাকার চেষ্টা করবো।যদি না থাকি তাহলে আপনারা গেলেই হবে।ওদের বলা আছে।"
"কিন্তু আপনি যাবেন কই?"
"লাশের খবরে একা জায়গায় যেতে হবে।পরে এসে আবার লাশ পাহারা দিবো।আপনাদের সমস্যা হবে না।আর রাস্তায় মেডিকেলের আইডি দেখালে পুলিশ ঝামেলা করবে না"।
হামিদ ভাই এর কথামত একটু বেশি রাতেই বের হলাম।মেডিকেলে এসে হামিদ ভাই এর দেখা পেলাম না।নতুন লোকটা দেখি ভয়ে অস্থির।লাশকাটা ঘরের ভয় নাকি অবৈধ কাজের ভয় ঠিক বুঝলাম না।লোকটা চাবি দিয়ে দরজা খুলে বাইরে দাড়িয়ে রইলো।
আমি লোকটা দিকে তাকিয়ে ঝাঝাল কন্ঠে বললাম "বাইরে দাড়িয়ে থাকবা নাকি?ভিতরে ঢুকে লাশটা আমাদের দেখাও।ধরে কফিনে ঢুকাও"
লোকটা পায়ে পায়ে ভিতরে ঢুকে একটা ট্রলির পাশে দাড়ায়।এই ট্রলিটা একটু অন্যরকম।চাকার কাছে ইট দেয়া।নষ্ট ট্রলির ব্যাপার স্যাপার হয়তো!ও নিয়ে মাথা ঘামালাম না।লোকটা সাহস করে সাদা কাপরে ঢাকা লাশটা মুড়িয়ে বেধে ফেলল।তারপর তিনজনে ধরে লাশটা বারান্দায় রাখা কফিনে ঢুকালাম।
বাসার কাছে এসে দেখি গোটা এলাকায় ইলেকট্রিসিটি নাই।আমাদের এই এলাকায় আবার গ্রাম গ্রাম ভাব।ঝড় বৃষ্টি হলেই লাইন অফ থাকে।পরে লাইন আসতে দেরি হয়।তাই আমরা ডজন ধরে মোমবাতি কিনে রাখি।
অন্ধকারের মধ্যে কফিন ধরে দোতালায় তুলি।আর কোন ভাড়াটে না থাকায় অহেতুক প্রশ্নের হাত থেকে বেচে গেছি।
রুমে ঢুকে হাসান মোমবাতি ধরাতে ধরাতে বললো "বৃষ্টির সাথে সাথে ঝড় বাড়ছে।আজ আর কারেন্ট আসবে না"
"মোমের আলোয় স্যুটিং করবি নাকি?"
হাসান উত্তেজিত গলায় বললো ""সেইটাই একসেলেন্ট হবে।মোমের আলোয় পরিবেশ আরো ভয়ংকর মনে হবে।"
"আজ তো আর খাওয়া হবে না।তুই সব যন্ত্রপাতি বের কর।আমি হাত মুখ ধুয়ে আসি।আর মাংসের টুকরা যে করবি চাপাতি এনেছিস?"
হাসান মৃদু গলায় বললো "সব টেবিলের নিচে রাখা আছে।একদম নতুন !!"
বাথরুম থেকে বের হয়ে দেখি হাসান সব রেডি করে রেখেছে।টেবিলের উপর সাদা কাপড়ে মোড়া লাশের পাশে লাল রংঙের মোমবাতি জলছে।আমি কালো পা দুটোর দিকে তাকিয়ে তোয়ালে দিয়ে হাত মুছতে মুছতে বললাম "শুধু পায়ের কাছে খুললি কেন?পুরো চাদরটাই সরিয়ে ফেল।"
"এখন পুরা চাদর সরানো যাবে না।পুরা লাশটারই ছাল ছাড়াব আমরা কিন্তু আস্তে আস্তে।পা থেকে ছিলতে ছিলতে মাথা পর্যন্ত উঠবো।প্রথমেই চাদর সরিয়ে ফেললে দর্শক মজা না পেয়ে উল্টা ভয় পেতে পারে।"
আমি শক্ত হয়ে যাওয়া পায়ে হাত দিয়ে বললাম "ঠিক আছে।এখন স্কালপেন আর টুইজারটা দে"
হাসান হা হা করে হেসে উঠে বললো "এখনই না।তোর পোশাক আশাক ঠিক করতে হবে।তোর জন্য একটা কালো আলখাল্লা ভাড়া করে এনেছি"
"এই গরমে আলখাল্লা পরতে হবে?"
"গরম কোথায় দেখলি,বাইরে তো বৃষ্টি।নে দোস্ত তাড়াতাড়ি পরে নে।আলখাল্লার সাথে টেবিলের উপর একটা সুচালো টুপিও আছে।আর কালো কাপড় দিয়ে মুখ বেধে নে।শুধু চোখ খোলা থাকবে।"
আমি আর কথা না বাড়িয়ে ও যা যা করতে বললো তাই করলাম।সব পরে ছুরি চিমটা নিয়ে লেগে পরলাম লাশের চামড়া ছিলতে।প্রথম প্রথম হাত কাপতে লাগলো।হাসান বললো "এডিটিং এর সময় এগুলো কেটে বাদ দিতে হবে"।
কালো আলখাল্লার মধ্যে ঘামের স্রোত বইয়ে আমি যন্ত্রের মত লাশের চামড়া ছিলি।যখন কষ্ট হয় বসে একটু জিরিয়ে নেই।পানি খাই।হাসানও ক্যামেরা বন্ধ করে বারান্দায় হাটাহাটি করে।
পা থেকে চামড়া ছিলে বুক পর্যন্ত আসতে রাত ৩টা বেজে গেলো।মোমবাতি সব ফুরিয়ে আসছে।আরও ঘন্টা খানেক লাগিয়ে বুকের দিকটা আর দুই হাত শেষ করলাম।এবার লাশ উল্টে পিঠের দিকে যাব আর সবশেষে মাথা।
হাসান ক্যামেরা বন্ধ রেখে হাত লাগায় লাশের পাশ ফিরিয়ে দিতে।উল্টানোর সময় অসাবধানতার কারণে লাশের চাদর পুরোটা খুলে যায়।
মোমবাতির সল্প আলোয় মুখ থেকে কাপড় সরে যেতেই লাশের মুখটা খুব চেনা চেনা মনে হলো।
হাসানও দেখেছে মুখটা।সে কাপা কাপা গলায় আমার নাম ধরে ডাকলো।আর ঠিক সেই সময়ে জানলা দিয়ে আসা বাইরের দমকা বাতাসে মোমবাতি নিভে গেলো।আমরা ডুবে গেলাম অন্ধকার আর ভয়ের রাজ্যে।
হাসান কাপা কাপা গলায় বললো "লাশের মুখ দেখেছিস"
আমি একটু ধাতস্থ হয়ে বললাম "হু"।এর বেশি কথা জোগালো না মুখে।
"কেমন জানি হামিদ ভাই এর মত চেহারা।মনে হয় যেন হামিদ ভাই ই"
আমি ভয়ার্ত স্বরে বললাম "মোমটা জ্বালা দেখি ব্যাপারটা কী"
হাসান অনেকক্ষণ অন্ধকারে হাতড়াহাতড়ি করলো।মোম পেলো না।আমি ঝাঝাল গলায় বলতে চাইলাম,বের হলো চিচি স্বর "মোম না পেলে লাইটার টা তো জ্বালাতে পারিস"
"ওটাও পাচ্ছি না,কোথায় রেখেছি মনে নাই"
"আর কিছু না পেলে তোর ক্যামেরার লাইট টা অন কর"
হাসান খাটের উপর থেকে ক্যামেরা নিয়ে অন্ধকারে সুইচ টুইচ টিপছে।
এমন সময় বাইরে বিদুৎ চমকে ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঘরের ভেতর এক ঝলক আলো দেখা গেল।আর সেই আলোয় দেখলাম ডিসেকশান টেবিল শূণ্য।কেউ নাই।এমনকি সাদা চাদরটা পর্যন্ত।আমার গলা দিয়ে স্বর বের হলো না।
এরমধ্যে হাসান ক্যামেরার আলো জ্বেলেছে।সে আলোয় আগে যা দেখেছিলাম তা-ই দেখলাম।ডিসেকশানের লম্বা টেবিলটা শূণ্য।শুধু কালচেটে রক্তের দাগ লেগে আছে।ঘরের মধ্য দুজনে নীরব।হাসান আমার দিকে তাকিয়ে ক্যামেরার আলো ঘরের চারদিকে ঘুরায়।কোথাও কেউ নাই।কিচ্ছু নাই।হাসানের হাতের ক্যামেরার আলো কমে আসছে।বোধহয় ব্যাটারির চার্জ শেষ।
হঠাৎ মনে হলো জানালার পাশে কীসের জানি শব্দ হচ্ছে।বৃষ্টির শব্দ না।প্রচন্ড ব্যাথায় কারো গোঙানির শব্দ।
আমার বলার আগেই হাসান ক্যামেরার নিভু নিভু আলো ঘুরিয়ে জানলার দিকে নিলো।
যে দৃশ্য দেখলাম তাতে অজ্ঞান হয়ে পরে যাবার কথা।কিন্তু ডাক্তারী পরে পরে নার্ভ শক্ত হয়ে গেছিলো বিধায় আমাদের কিছু হলো না।আমরা স্বাভাবিকভাবে দেখলাম খোলা জানলা দিয়ে একটা চামড়া ছাড়ানো মৃতদেহ ভেতরে ঢুকছে।মৃতদেহের চর্বির স্তরের উপর দিয়ে টপ টপ করে পানি ঝরছে।
মৃতদেহের মুখটা হামিদ ভাই এর।চামড়া ছাড়ানো মৃতদেহটা টুপ করে জানলা গলে ভেতরে লাফিয়ে পরলো।গলা দিয়ে একটা আর্তনাদ ভেসে এল।আর তখনি ক্যামেরার লাইট পুরাপুরি নিভে গেলো।
আমরা ডুবে গেলাম অন্ধকারে।এখন আমাদের সাথে ঘরে আছে পিঠ বাদে বাকি শরীরের চামড়া ছিলানো একটা পরিচিত মৃতদেহ যে এতদিন এখানেই বাস করত।
দুজনের মধ্যে ভয় আবার ফিরে এসেছে।দুজন খাটের উপর পাশাপাশি বসে আছি।ঘরের মধ্যে আহ উহ করতে করতে হামিদ ভাই হাটাহাটি করছে।একসময় তার পরিচিত গলা পা্ওয়া গেল "বড় যন্ত্রণা।ছোটভাই বড় যন্ত্রণা শরীর জুড়ে।একটু পানি খাওয়াতে পারেন? "
আমাদের মুখ থেকে কথা বের হয় না।
"ওহ হো,বাইরের বাতাস শরীরে লাগলেও জ্বলে যাচ্ছে।পুড়ে যাচ্ছে গোটা শরীর।ওহ!!" হামিদ ভাই এর গলা দিয়ে একজাতীয় জান্তব আওয়াজ বের হয়।
"ছোটভাই চামড়া দিতে পারেন?ওহ অসহ্য যন্ত্রণা"
হাসান বলে উঠে "তুমি হাসান ভাই নও।তুমি আমাদের চোখের ভুল।কাজ করতে করতে আমাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।"
ঘরের কোণা থেকে অতিকষ্টে হাসির শব্দ ভেসে আসে।এই হাসি আমরা চিনি।হামিদ ভাই এর হাসি।
হামিদ ভাই টেনে টেনে অতিকষ্টে বলে "লাশকাটা ঘরের ট্রলির উপর আমি ছিলাম।ঘুমানোর আগে ট্রলির চাকায় ইট দিয়ে রেখেছিলাম যাতে না নড়ে"
হঠাৎ আমার ইটের কথা মনে পরলো।আমি বললাম "ইট গুলো আমি দেখেছি।"
হামিদ ভাই টেনে টেনে বলতে থাকে "লাশ না পেয়ে তাড়াতাড়ি মেডিকেলে ফিরে আসি।কোন কাজ না থাকায় মর্গে ঢুকে আমার ট্রলিতে শুয়ে পরি।চোখে আলো লাগছিলো দেখে সাদা চাদরে মুরি দেই।ঘুমিয়ে পরি।আর ঐ মরা ট্রলিতে ঘুমালে আমার যেন কি হয়,ঠিক মরার মত হয়ে যাই।সকালে আবার ঠিক হয়ে যায়।আজ ওখানে ঘুমানোর কথা না আমার।কিন্তু ঘুমিয়ে গেছিলাম।মড়ার ঘুম।ঘুম ভাঙতেই দেখি আমি এই অন্ধকার ঘরে।শরীরে অসহনীয় ব্যাথা।কিছু বুঝে উঠার আগে জানলা দিয়ে লাফিয়ে পড়ি।বৃষ্টির ফোটা চামড়া ছিলা গায়ে পরতেই ব্যাথা আরো বেড়ে গেলো।আবার ফিরে এলাম পানি খাবো বলে।"
আমি ঢোক গিলে কোনমতে বললাম "হামিদ ভাই আমার টেবিলে জগ আছে।নিয়ে খাও"
অন্ধকারে কিছু সরে যেতে থাকে।পা টেনে টেনে হাটার শব্দ হয়।তারপর পানি খাওয়ার শব্দ।
পানি খাওয়া শেষ হলে তৃপ্তির শ্বাস নিয়ে বলে "ছোটভাই আমার চামড়াটা আমারে দিয়া দেন।চামড়া ছাড়া বড় কষ্ট।"
তারপর অন্ধকারে ছায়ামূর্তিটা কিছু খুজতে থাকে।এঘর থেকে ওঘর করতে থাকে।
একসময় বৃষ্টি থামে।আবার বিদুৎ চমকের আলোতে আমরা দেখি চামড়াবিহীন মূর্তিটা জানলা দিয়ে "বড় কষ্ট বলে লাফ দেয়"।তার হাতে কি যেন ধরা।
এই সময় ফজরের আযান দেয়।ইলেকট্রিসিটি চলে আসে।ঘরের মধ্যে তাকিয়ে দেখি গোটা ঘর বিধ্বস্ত।তন্নতন্ন করে কিছু খুজেছে কেউ।এখানে ওখানে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ।আমি উঠে যেখানে ছাড়ানো চামড়া রেখেছিলাম সেই বাস্কেটের মধ্যে উকি দেই।কিছু নেই।কেউ সব কুড়িয়ে নিয়ে গেছে।
হাসান উঠে ক্যামেরার ব্যাটারি চার্জ দিয়ে ভিডিওকৃত অংশ দেখে।
পুরা রিল ফাকা।কিছুই উঠেনি তাতে।
তারপর থেকে হামিদ ভাই কেও আর দেখে যায় নাই। 

Comments

Popular posts from this blog

প্রেতের কান্না - শ্রীযোগেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে অনেকক্ষণ। পৃথিবীর বুকে নেমে এসেছে জমজমাট অন্ধকার। দেবকুমার বুঝতে পারল সে পথ হারিয়ে ফেলেছে—বন্ধু রজতের বাড়ি খুঁজে বার করা একেবারেই অসাধ্য। কত চেষ্টাই তো করল সে! কিন্তু রজতের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পথ সে খুঁজে বার করতে পারল না । মনে মনে জেগে ওঠে তার শত অনুতাপ। রজত তাকে বারণ করেছিল। সে বলেছিল বারবারই, “শোনো দেবকুমার, এসব পাহাড়ে জায়গা একেবারেই ভালো নয়, এখানে-সেখানে কত বিপদ ওৎ পেতে বসে আছে! কাজেই বিকেল পাঁচটা না বাজতেই ফিরে এসো !” সে তখন হেসেছিল বিদ্রুপের হাসি! একটা শক্ত-সমর্থ জোয়ান ছেলে সে, পাহাড়ে পথ বলেই কি তার বিপদ হবে? সে কি পাঁচ বছরের কচি ছেলে যে তাকে সহজেই কেউ বিপদে ফেলতে পারে? তখন এমনি কত কথাই তার মনে হয়েছিল, কিন্তু এখন ? এখন যে বাচ্চা ছেলের মতোই সে পথ হারিয়ে ফেলল ? এখন কোথায় সে যাবে? কেই বা তাকে আশ্রয় দেবে? হ্যাঁ, ঐ যে দূরে একটা আলো দেখা যায় না? দেবকুমারের আশা হল, নিশ্চয়ই ঐখানে কোনো বসতি আছে, ওখানে গেলে সে নিশ্চয়ই একটু আশ্রয় পেতে পারে। দেবকুমার জোরে পা চালিয়ে দিল। মিনিট দশেক পরেই দেখা গেল, এক প্রকাণ্ড বাড়ি তার সুমুখে দাঁড়িয়ে। বাড়িটি জীর্ণ পুরা...

একটি বিশ্রী অবয়ব - তানজিনা তানিয়া

অায়নার সামনে দাঁড়াতেই অাবারো অামার সামনে সেই বিশ্রী অবয়ব টা ভেসে উঠলো। অামি ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম। রাসফি দৌড়ে এসে অামার বাহু দু হাতে অাঁকড়ে ধরে বললো -তোমাকে না কতদিন বলেছি, যেহেতু অায়নার সামনে দাঁড়ালে তোমার সমস্যা হয়, তাহলে অায়নার সামনে অার দাঁড়াবে না। অামি কাঁদো কাঁদো গলায় বললাম -কে যেন অামাকে জোর করে এনে অায়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। অামি শত চেষ্টা করেও অাটকাতে পারি না। অায়নাটা অামাকে ভীষণভাবে টানে। রাসফি প্রচুর রেগে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের অায়নাটার গায়ে ফুলদানি দিয়ে সজোড়ে অাঘাত করে ভেঙে ফেললো, সাথে সাথে ড্রেসিং টেবিল থেকে লাল তরল পদার্থ বের হতে থাকলো। অামি ভয়ে চিৎকার দিয়ে রাসফিকে জড়িয়ে ধরলাম। রাসফির চোখ-মুখ শক্ত হয়ে গেছে ভয়ে। ড্রেসিং টেবিলের অায়না ভাঙলে সেখান থেকে রক্ত বের হতে পারে, সেটা রাসফি কেন অামরা কেউ কখনো কল্পনা করি নি! মুহুর্তে রক্তে অামাদের পুরো রুমের মেঝে ভরে গেলো। অামরা অাশ্চর্য হয়ে লক্ষ করলাম, রক্তটা নিজে নিজে এক একটা অক্ষরে পরিণত হচ্ছে। প্রথমে 'ন' 'র' 'জ' হলো তারপর সেগুলোতে ই-কার, অা-কার বসে একটা নাম হয়ে গেলো। পরিপূর্ণ নাম। "নিরাজ"। কিন্তু ...

পূণিমার রাত

সেদিন ছিল পূণিমার রাত । রাত প্রায় তিনটা বাজে । আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ছিলাম । বাসার সবাই ঘুম । হঠাৎ ছাদ থেকে ধুপ ধুপ শব্দ ভেসে এলো । বিকেল বেলায় আমরা ছাদে খেললে যেমনটি শব্দ হয় ঠিক তেমনটি । আমি বেশ অবাক হলাম , এতো রাতে ছাদে আবার কে খেলছে ! কাকু আর আমি একই রুমে থাকি । বেশ কয়েকবার শব্দ হওয়ায় কাকুকে ডাক দিলাম । কাকুর উঠার নামটি নেই । নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে । অনেকক্ষন ডাকা ডাকি করার পরে কোন রকম মাথা তুলে বললেন তুই গিয়ে দেখনা কে ? ইদুর টিদুর হবে হয়তো । বলে কাকু আবার নাক ডাকতে শুরু করলেন । এদিকে ছাদের শব্দ দৌড়া দৌড়ি পর্যায় পৌছে গেছে । আমি আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করলাম আমার তেমন ভয় করছেনা । বরং দেখতে ইচ্ছে করছে এতো রাতে ছাদে কে দৌড়া দৌড়ি করছে । আমাদের রান্না ঘরের দেয়ালে মা ছাদের চাবি ঝুলিয়ে রাখেন । আমি ঘর থেকে বেড় হয়ে ছাদের চাবি নিলাম । আমাদের ফ্লাট থেকে বেড় হতেই ডান দিক দিয়ে উঠে গেছে ছাদের সিঁড়ি । প্রতিটি বারান্দায় বাতি জ্বলছে । তিন তলার বারান্দা গুরে ছাদের সিঁড়ি । আমি ছাদের সিঁড়িতে উঠার পরও আমার কোন ভয় লাগছিল না । তিন তলা থেকে ছাদের দরজা দেখা যায় । বন্ধ দরজা । তালা দেখা যাচ্ছে । তবে ছাদে শব্দ করছে কে ?...