Skip to main content

ভুতের গল্প

রাত তখন দুটোর মত বাজে। প্রচণ্ড অস্বস্তিতে ঘুম আসছিল না একেবারেই। রুমের এখান থেকে ওখানে পায়চারি করছি। পুরো বাড়ি খালি, একটি মানুষও নেই। বিয়ের দাওয়াত খেতে সবাই ঢাকার বাইরে। সোফায় বসে গ্লাসে পানি ঢালছি এমন সময় একটি অদ্ভুত আওয়াজ শুনলাম। ডাকটি কুকুরের মতন কিন্তু সেটি যে কুকুরের ডাক নয় তা স্পষ্ট। বুঝতে পারলাম বাড়ির বাগান থেকেই সেটি আসছে। আশংকা হলো কিছু একটা এসে বাগানের গাছগাছড়া নষ্ট করছে বোধহয়। তাই দেরি না করে নিচে নেমে বাগানে এসে খুঁজতে লাগলাম কোনো কিছু আছে কিনা। প্রায় অনেকক্ষণ খুঁজলাম। কিন্তু চোখে পড়ল না কিছুই। বাগানের একদিকে কিছু ঝোপঝাড় ছিল। মনে হলো হতচ্ছাড়াটা বুঝি আমার আগমন টের পেয়ে এর পেছনে যেয়ে লুকিয়েছে। সেখানে যেয়ে ঝোপঝাড় হাত দিয়ে সরাতেই যা দেখলাম তা আজও মনে হলে আমার রক্ত পানি হয়ে আসে। কুচকুচে কালো রঙের একটি প্রাণী দাঁড়িয়ে, তার সমস্ত শরীরটা গরুর মত কিন্তু মুখটা হুবহু শিয়ালের। আমি ভয়ে, আতঙ্কে গোঁ গোঁ শব্দ করতে করতে উল্টো দিকে দৌড় লাগালাম। সোজা রুমে ঢুকে দরজা জানালা বন্ধ করে পাথরের মূর্তির মত বসে রইলাম। কিছুক্ষণ পর বুঝলাম ভয়ে সমস্ত শরীর আমার থরথর করে কাঁপছে। এভাবেই ভোর পর্যন্ত কাটাতে হয়েছিল সেই রাত।


তখন আমার বয়স দশ বছর। আমি বরাবর একটু ঘরকুনো টাইপের। আমার ছোটো চাচা ছিলো আমার সর্বক্ষণের সঙ্গী। সে ছিলো খুব
সাহসী আর বেপরোয়া। আর তার উপর গ্রামে থাকে। কিছুই ভয় পেতোনা সে। তো এবার আসল ঘটনায় আসা যাক। ভাদ্র মাস, তাল পাকার মাস। তো একদিন রাত ৪ টায় সে গেল তাল টোকাতে। কিন্তু সেদিন কপালে তাল ছিলো না, কেউ তার আগে তা নিয়ে গেছে। ভীষণ রাগে গজগজ করতে করতে
সে বাড়ির দিকে রওনা দিল। তালগাছটা ছিলো একটা মন্দিরের পাশে। আর তার চারদিকে ছিলো ঘন জঙ্গল। তো যখন সে রওনা দিল হঠাৎ জঙ্গলের ভেতর থেকে কেউ একজন পরপর তিনবার তার নাম ধরে ডাকলো। যেহেতু সে প্রচণ্ড সাহসী, সে সাড়া না দিয়ে বাড়ি চলে এলো। কিন্তু তারপর থেকে তার মনে
হয় কেউ তার উপর সবসময় নজর রাখছে।।। সে আমায় সব বলে। আর বলে আমি যেন তা কাউকে না
বলি। তো আমি তাই করলাম। জানুয়ারি ২০০৮। রাত ১২ টা বাজে। বাড়িতে মেহমান তাই। সে বাথরুম এ গেছে। তো বাথরুম সেরে সে বাইরে এলো। হঠাৎ লাইটের আবছা আলোয় সে দেখলো একটি মানুষের মতো অবয়ব তার সামনে দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে চলে গেল। যেহেতু গভীর রাত, সে ভাবলো
হয়তো চোর এসেছে। তাই কাকু তার পিছু নিলো আমাদের বাড়িতে চারটে ঘর। আমাদের ঘর দক্ষিণমুখো। ঘরের ঠিক সামনেই বড় পুকুর। পুকুরের পাশেই বাথরুম। চারপাশে জঙ্গল। পরে মাঠ। তো কাকু লোকটার পিছু নিয়ে ঐ মাঠ পর্যন্ত গেলো। কিন্তু লোকটাকে আর কোথাও দেখা গেল না। কাকা যেই
বাড়িমুখো হয়েছে হঠাৎ সে শুনলো জঙ্গলের ভেতর কে জেন কাশছে। এবার সে একটু ঘাবড়ে গেল। সে এবার ঐ কাশির শব্দ অনুসরণ করে জঙ্গলের ভেতরে প্রবেশ করলো। সে শব্দ উৎসের কাছে যেতেই কে জেন তার গায়ে থু থু ছিটিয়ে দিলো এবং ভয়ঙ্করভাবে হাসতে লাগলো। কাকু আর নিজেকে সামলাতে পারলো না, দৌড় দিলো এবং দরজার কাছে এসে জ্ঞান হারালো। আমরা ছুটে গিয়ে দেখি কাকু অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে। তার সারা দেহে থু থু এর মতো কি জেন লেগে আছে। তাকে পরিষ্কার করে ঘরে নিয়ে আসা হয়। দুদিন পর তার জ্ঞান ফেরে। জ্ঞান ফিরলে সে সবাইকে ঘটনাটা খুলে বললো। কিন্তু আর কিছু করা সম্ভব হলোনা। কয়েক দিনের মধ্যে তার সারা গায়ে পচন ধরে এবং ১৫ দিন পর সে মারা যায়।
বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা এখনো রাত ১২-১.০০
টা পর্যন্ত কাকুর কবরের ওপর যেন কে কাদে। আর প্রতি পূর্ণিমারাতে জঙ্গলের ঐ জায়গা থেকে বীভৎস
চিৎকারের আওয়াজ পাওয়া যায়। আমরা কেউ রাত ১০.০০ টার পরে বাইরে বেরোই না। কাকুর কথা আজো খুব মনে পরে। আর মনে পরে ঐ ভয়ঙ্কর রাতের কথা। কাকুর মৃত্যু আজও আমাদের কাছে
রহস্য। আরো অবাক লাগে একবার থু থু দিলে কিভাবে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ পুরোপুরি ভিজে
যায়!!!!

ঘটনাটি সত্য মিথ্যা জানিনা তবে এ পৃথিবীতে আজও রহস্যময় অনেক কিছুই আছে যার ব্যাখ্যা বিজ্ঞান এখনো দিতে পারেনি। ঘটনাটি কেমন লাগলো অবশ্যই জানাবেন। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।



---------------------------
আমার ছোট ভাইটা জন্ম থেকেই রোগা। তখন আর এতো ডাক্তার ছিলোনা। কবিরাজদের উপরেই ভরসা করা লাগতো। এক কবিরাজ বললো ছোট ভাইকে রাঘা মাছ খাওয়াতে হবে, ওই মাছ গুলায় অনেক প্রোটিন আর রক্ত হয়। অভাবের সংসার আমাদের এ মাছ কিনার টাকা কই পাবো? তাই আমি আর বড় ভাই রাতি দোনালি(লাঠিকে মাঝখান দিয়ে ভেঙ্গে কায়দা করে কপি বা ছেরাগ বসিয়ে তৈরী করা এক ধরনের আলোর উৎস)নিয়ে রাতে মাছ শিকারে বের হতাম। হাতে এক শিকওয়ালা টেঁটা নিয়ে। তখন বিলে অনেক মাছ পাওয়া যেতো। একদিন সারা সন্ধ্যা ঘুরেও তেমন মাছ পেলাম না,, তাই আমরা অন্যদিকে চললাম মাছের খোজে, যেদিকে মানুষ তেমন একটা যায়না। ওদিকে যাওয়া মাত্রই অনেক মাছের দেখা পেলাম। এমন মাছ মারতে মারতে আমরা অনেক দূরে চলে আসলাম বাড়ি আর লোকালয় থেকে। হটাৎ দেখলাম আরো কিছুদূর সামনে একটা আলো জ্বলছে,, কিন্তু আলোটা কোন দোনালি বা মানুষের আলোর মত না। আলোটা স্থির যেখানে পুকুরের সাথে বিলের সংযোগস্থল। আমরা আরো কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ আলোটা নড়ে উঠল। যা দেখলাম তার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলামনা। একটা বিড়াল আকৃতির জন্তু মুখে আগুন নিয়ে বসে আছে মাছ খাওয়ার আশায়। ভাই বুঝলো আমি ভয় পাচ্ছি। তখন ওই জিনিসটাও আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে গেছে। ভাই বললো চল চল আমরা বাড়ি ফিরে যাই, এটা একটা বিড়াল। কিন্তু ওনার চোখে মুখে স্পষ্ট ভয়ার্ত ছাপ। আমি বললাম চলেন ভাই। আমরা এবার ঘুরে হাটা ধরলাম। যেহেতু অন্ধকার রাত তার উপর হাতে খোলা বাতি দৌড়াতে গেলে নিভে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর আগুন থাকলে খারাপ কিছু কোন ক্ষতি করতে পারেনা। আমি সামনের দিকে হাটছি আর বারবার পিছন ফিরে তাকাচ্ছি। দেখি আলোটা আমাদের অনুসরন করে পিছু পিছু আসছে। ভয় আরো বেড়ে গেলো। ভাইয়ের হাত চেপে ধরলাম শক্ত করে। এভাবে কতদূর হাটছি জানিনা। একটা সময় মায়ের গলার আওয়াজ শুনতে পেলাম আমাদের ডাকছে। আমরা ওনার ডাকে সাড়া দিলাম। অনেক কষ্টে ওনার কাছে পৌছলাম তারপর ওনাকে সব খুলে বললো ভাই। মা বললো তোদের ভাগ্য ভালো তাই ফিরে আসতে পেরেছিস, এগুলো হল পিশাচ। রাতে মাছ ধরে খায়। কিন্তু এদের সামনে পড়ে গেলে মানুষ মেরে ফেলে। আমরা অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। মা ঘরে এনে আমাদের লবন পুড়ে খাওয়ালেন। যাতে আমাদের ভয় কমে যায়। এরপর থেকে আমরা আর কখনো ওদিকে মাছ মারতে যাইনি।
---------------------------------

Comments

Popular posts from this blog

প্রেতের কান্না - শ্রীযোগেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে অনেকক্ষণ। পৃথিবীর বুকে নেমে এসেছে জমজমাট অন্ধকার। দেবকুমার বুঝতে পারল সে পথ হারিয়ে ফেলেছে—বন্ধু রজতের বাড়ি খুঁজে বার করা একেবারেই অসাধ্য। কত চেষ্টাই তো করল সে! কিন্তু রজতের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পথ সে খুঁজে বার করতে পারল না । মনে মনে জেগে ওঠে তার শত অনুতাপ। রজত তাকে বারণ করেছিল। সে বলেছিল বারবারই, “শোনো দেবকুমার, এসব পাহাড়ে জায়গা একেবারেই ভালো নয়, এখানে-সেখানে কত বিপদ ওৎ পেতে বসে আছে! কাজেই বিকেল পাঁচটা না বাজতেই ফিরে এসো !” সে তখন হেসেছিল বিদ্রুপের হাসি! একটা শক্ত-সমর্থ জোয়ান ছেলে সে, পাহাড়ে পথ বলেই কি তার বিপদ হবে? সে কি পাঁচ বছরের কচি ছেলে যে তাকে সহজেই কেউ বিপদে ফেলতে পারে? তখন এমনি কত কথাই তার মনে হয়েছিল, কিন্তু এখন ? এখন যে বাচ্চা ছেলের মতোই সে পথ হারিয়ে ফেলল ? এখন কোথায় সে যাবে? কেই বা তাকে আশ্রয় দেবে? হ্যাঁ, ঐ যে দূরে একটা আলো দেখা যায় না? দেবকুমারের আশা হল, নিশ্চয়ই ঐখানে কোনো বসতি আছে, ওখানে গেলে সে নিশ্চয়ই একটু আশ্রয় পেতে পারে। দেবকুমার জোরে পা চালিয়ে দিল। মিনিট দশেক পরেই দেখা গেল, এক প্রকাণ্ড বাড়ি তার সুমুখে দাঁড়িয়ে। বাড়িটি জীর্ণ পুরা...

একটি বিশ্রী অবয়ব - তানজিনা তানিয়া

অায়নার সামনে দাঁড়াতেই অাবারো অামার সামনে সেই বিশ্রী অবয়ব টা ভেসে উঠলো। অামি ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম। রাসফি দৌড়ে এসে অামার বাহু দু হাতে অাঁকড়ে ধরে বললো -তোমাকে না কতদিন বলেছি, যেহেতু অায়নার সামনে দাঁড়ালে তোমার সমস্যা হয়, তাহলে অায়নার সামনে অার দাঁড়াবে না। অামি কাঁদো কাঁদো গলায় বললাম -কে যেন অামাকে জোর করে এনে অায়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। অামি শত চেষ্টা করেও অাটকাতে পারি না। অায়নাটা অামাকে ভীষণভাবে টানে। রাসফি প্রচুর রেগে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের অায়নাটার গায়ে ফুলদানি দিয়ে সজোড়ে অাঘাত করে ভেঙে ফেললো, সাথে সাথে ড্রেসিং টেবিল থেকে লাল তরল পদার্থ বের হতে থাকলো। অামি ভয়ে চিৎকার দিয়ে রাসফিকে জড়িয়ে ধরলাম। রাসফির চোখ-মুখ শক্ত হয়ে গেছে ভয়ে। ড্রেসিং টেবিলের অায়না ভাঙলে সেখান থেকে রক্ত বের হতে পারে, সেটা রাসফি কেন অামরা কেউ কখনো কল্পনা করি নি! মুহুর্তে রক্তে অামাদের পুরো রুমের মেঝে ভরে গেলো। অামরা অাশ্চর্য হয়ে লক্ষ করলাম, রক্তটা নিজে নিজে এক একটা অক্ষরে পরিণত হচ্ছে। প্রথমে 'ন' 'র' 'জ' হলো তারপর সেগুলোতে ই-কার, অা-কার বসে একটা নাম হয়ে গেলো। পরিপূর্ণ নাম। "নিরাজ"। কিন্তু ...

পূণিমার রাত

সেদিন ছিল পূণিমার রাত । রাত প্রায় তিনটা বাজে । আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ছিলাম । বাসার সবাই ঘুম । হঠাৎ ছাদ থেকে ধুপ ধুপ শব্দ ভেসে এলো । বিকেল বেলায় আমরা ছাদে খেললে যেমনটি শব্দ হয় ঠিক তেমনটি । আমি বেশ অবাক হলাম , এতো রাতে ছাদে আবার কে খেলছে ! কাকু আর আমি একই রুমে থাকি । বেশ কয়েকবার শব্দ হওয়ায় কাকুকে ডাক দিলাম । কাকুর উঠার নামটি নেই । নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে । অনেকক্ষন ডাকা ডাকি করার পরে কোন রকম মাথা তুলে বললেন তুই গিয়ে দেখনা কে ? ইদুর টিদুর হবে হয়তো । বলে কাকু আবার নাক ডাকতে শুরু করলেন । এদিকে ছাদের শব্দ দৌড়া দৌড়ি পর্যায় পৌছে গেছে । আমি আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করলাম আমার তেমন ভয় করছেনা । বরং দেখতে ইচ্ছে করছে এতো রাতে ছাদে কে দৌড়া দৌড়ি করছে । আমাদের রান্না ঘরের দেয়ালে মা ছাদের চাবি ঝুলিয়ে রাখেন । আমি ঘর থেকে বেড় হয়ে ছাদের চাবি নিলাম । আমাদের ফ্লাট থেকে বেড় হতেই ডান দিক দিয়ে উঠে গেছে ছাদের সিঁড়ি । প্রতিটি বারান্দায় বাতি জ্বলছে । তিন তলার বারান্দা গুরে ছাদের সিঁড়ি । আমি ছাদের সিঁড়িতে উঠার পরও আমার কোন ভয় লাগছিল না । তিন তলা থেকে ছাদের দরজা দেখা যায় । বন্ধ দরজা । তালা দেখা যাচ্ছে । তবে ছাদে শব্দ করছে কে ?...